কেন হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল সৌরভ-আশুতোষকে? কোন যুক্তিতে মুক্তি দিল আদালত?
Saurav Das & Ashutosh Ranka Case: কেন তিহাড়ে পাঠানো হয়েছিল সিজেপি নেতা সৌরভ ও আশুতোষকে? আর কোন যুক্তিতে তাঁদের আর হেফাজতে না রেখে মুক্তি দিল আদালত?
ঘটনার শুরু ১০ অক্টোবর ২০২৬ থেকে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ নামে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। এই কর্মসূচির আগেই আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকে-সহ কয়েকজনকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটক করা হয়। পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১২৬ ও ১৭০ ধারায় প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা নেয়। ১১ অক্টোবর তাঁদের ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও এক বছরের জন্য শান্তি রক্ষার মুচলেকা দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়।
তবে ১৩ অক্টোবর তাঁরা আবার যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করতে যান। যন্তর মন্তর তখন ডিনোটিফায়েড এলাকা, অর্থাৎ সেখানে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ। পুলিশের অভিযোগ, আশুতোষ ও সৌরভ-সহ কয়েকজন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গেট টপকে বা সংকীর্ণ পথ দিয়ে ভিতরে ঢুকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ও স্লোগান দেন। একে ‘অনধিকার প্রবেশ’ ও পূর্বের শান্তি রক্ষার মুচলেকা ভঙ্গ বলে দাবি করে পুলিশ। ১৪ অক্টোবর তাঁদের গ্রেপ্তার করে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের (SEM) আদালতে হাজির করা হয় এবং পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে তিহাড় জেলে পাঠানো হয়।
পুলিশের যুক্তি ছিল—তাঁরা আইনকে সম্মান করেন না, বারবার নিষিদ্ধ এলাকায় বিক্ষোভের ডাক দেন এবং মুক্তি পেলে আবার শান্তিভঙ্গ করতে পারেন। ১৯ অক্টোবর হেফাজতের মেয়াদ আরও দু'দিন বাড়ানো হয়। আদালত বলেছিল, তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ড ভেঙেছেন এবং তাঁদের আচরণে আস্থা রাখা যায় না।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gyanesh Kumar resignation: আজকে আমরা নেহাকে যে জায়গায় বসাচ্ছি, কাল সকালে যদি নেহার কোনো ত্রুটি হয় তাহলে কিন্তু আমরা এক মুহূর্তে তাঁকে ছুঁড়ে ফেলে দেব। তাহলে আমরাই বা আজকে নেহাকে এই জায়গায় বসাচ্ছি কেন?
অবশেষে ৭ দিন পর জেলমুক্ত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র দুই নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। টানা সাত দিন হাজত বাসের পর দিল্লির একটি আদালত থেকে শেষ পর্যন্ত আজই স্বস্তি পেয়েছেন সিজেপির দুই নেতা।
আদালত মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর, সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মন্দির মার্গ থানা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সৌরভ দাস বলেন, ‘সত্যের জয় হলো।’ তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও তিন দিন বাড়ানোর জন্য পুলিশের আবেদন খারিজ করে ২১ অক্টোবর তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দিল দিল্লির স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও আরও বেশ কয়েকটি শর্তে তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৩ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি। উল্লেখ্য গত ১৪ অক্টোবর সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে প্রথমে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। পরে সেই মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়, যার শেষ দিন ছিল ২১ অক্টোবর। এরপর পুলিশ ফের তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানায়। কিন্তু আদালত জানিয়ে দেয়, এই পর্যায়ে তাঁদের আর বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই। আদালতের মতে, আরও হেফাজত প্রয়োজনীয় নয় বন্ড ও লিখিত অঙ্গীকারই শান্তি রক্ষার জন্য যথেষ্ট। পরবর্তী শুনানি ২৩ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছিল। মুক্তির নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার জন্য একাধিক শর্ত বেঁধে দিয়েছে।
মুক্তির শর্তগুলি হলো, প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও সমপরিমাণ জামিনদারের বন্ড জমা দিতে হবে। এছাড়া লিখিত অঙ্গীকারপত্র দিতে হয়েছে যে তাঁরা শান্তি বজায় রাখবেন এবং যন্তর মন্তর ডিনোটিফায়েড থাকা পর্যন্ত সেখানে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না। কোনো প্রতিবাদ করলে তা সংবিধানের চৌহদ্দির মধ্যে রাখবেন।
শান্তি বিঘ্নিত হয়, এমন কোনো কাজে তাঁরা যুক্ত হতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থার প্রতি তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও লিখিতভাবে জানাতে হবে। এ ছাড়া, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত তালিকা থেকে সরানো না হওয়া পর্যন্ত সেখানে প্রতিবাদের ডাক দিতে পারবেন না তাঁরা। ভবিষ্যতে কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি হলে তা সংবিধানের নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে থেকেই করতে হবে। জামিনের বন্ড জমা দেওয়া এবং জামিনদারদের নথি প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করার পর আদালত তাঁদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী তিহাড় জেলের সুপারিনটেনডেন্টের কাছে মুক্তির পরোয়ানা পাঠানো হয়।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, তদন্তকারী আধিকারিককে জামিনদারদের নথি যাচাই করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। মামলার প্রতিটি শুনানিতে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে সশরীরে হাজির থাকতে হবে। তাঁদের জামিনদারদেরও প্রতিটি শুনানিতে উপস্থিত থাকতে হবে।
আগামী ২৩ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। আদালতের নির্ধারিত শর্তগুলি মেনে চলতে হবে দুই সিজেপি নেতাকে।







