জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুলদের মিছিল, পুলিশের বাধায় ধর্না বিরোধীদের

Opposition March to EC Office: এসআইআর ও ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করলেন রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়াা জোটের বিরোধী সাংসদরা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ স্লোগান ওঠে। তবে কমিশনের দফতরে পৌঁছনোর আগেই মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।

inscript
৩ মিনিট
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুলদের মিছিল, পুলিশের বাধায় ধর্না বিরোধীদের

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক প্রশ্ন এবং বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ফের পথে নামল বিরোধীরা। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতর নির্বচন সদনের দিকে মিছিল করেন ইন্ডিয়া জোটের একাধিক সাংসদ। তাঁদের মূল দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের ভূমিকার তদন্ত করতে হবে। হাতে আছে ‘Save Democracy’ লেখা প্ল্যাকার্ড। এবং ‘Save My Vote’ স্লোগানও।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে-সহ একাধিক বিরোধী নেতা এই মিছিলে অংশ নেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) সাংসদ সঞ্জয় রাউতকেও মিছিলে দেখা যায়। বিরোধীদের দাবি ছিল, নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে সরাসরি তাঁদের বক্তব্য জানানো হবে।

কিন্তু কমিশনের দফতরে পৌঁছনোর আগেই মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। সংসদ ভবন থেকে প্রায় আধ কিলোমিটার দূরে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের কাছে মিছিল আটকানো হয়। এরপর রাস্তাতেই বসে ধর্না শুরু করেন বিরোধী সাংসদরা। পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভকারীদের টানাপোড়েনের পর রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ বেশ কয়েকজন বিরোধী সাংসদকে আটক করা হয়। তাঁদের বাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার ছবিও সামনে এসেছে।

বিক্ষোভের সময় রাহুল গান্ধীর হাতে থাকা একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, ‘Gyanesh, it’s done bro!’ অর্থাৎ, ‘জ্ঞানেশ, হয়ে গেছে ভাই।’ পরে নিজের সমাজমাধ্যমের পোস্টেও রাহুল লেখেন, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ করার সময় এসেছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফর্ম ৬ বদলের অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট: তাহলে বদল করল কে?

Supreme Court on Form 6 Changes: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আদালত অনুমোদন করেনি। তাহলে ফর্ম ৬-এ অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিল? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে আদালত।

এই বিক্ষোভের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি। ২০২৫ সালের জুনে বিহার থেকে শুরু হওয়া ভোটার তালিকার এই বিশেষ সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, এর ফলে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই অভিযোগ মানেনি। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল করাই এসআইআর-এর উদ্দেশ্য।

এরই মধ্যে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত Form 6 নিয়ে। সোমবার, ৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে জানায়, Form 6-এর কোনো পরিবর্তনকে আদালত অনুমোদন করেনি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে নথি পাওয়ার পর আদালত খতিয়ে দেখবে, কে বা কারা ওই পরিবর্তন করেছিল।

Form 6 মূলত প্রথমবার ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার আবেদনপত্র। এসআইআর-এর সময় অনলাইন Form 6-এর সঙ্গে অতিরিক্ত একটি ঘোষণা যুক্ত করা হয়েছিল। সেখানে আবেদনকারী বা তাঁর বাবা-মা কিংবা পরিবারের আগের ভোটার তালিকায় থাকার মতো তথ্য চাওয়া হচ্ছিল। এই অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার বৈধতা নিয়েই মূল বিতর্ক।

বিরোধীদের অভিযোগ, কমিশনের তরফে এই পরিবর্তন করা হয়েছিল যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, Form 6-এর মূল কাঠামো বদলানো হয়নি। এসআইআর-এর ক্ষেত্রে আলাদা একটি ঘোষণা যুক্ত করা হয়েছিল। কমিশন আরও দাবি করেছে, এই ব্যবস্থা নিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ছিল।

তবে সুপ্রিম কোর্টের সোমবারের পর্যবেক্ষণের পর এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। আদালত কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে দেয়নি। বরং নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ও নথি পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে। ফলে Form 6 নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগের পাশাপাশি এখন বিষয়টি আইনি পর্যালোচনার মধ্যেও রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবারের মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ল। বিরোধীদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার জবাব কমিশনকেই দিতে হবে। অন্যদিকে কমিশন অভিযোগগুলিকে খারিজ করে নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে চলেছে।

তবে মঙ্গলবারের মিছিলে ইন্ডিয়া জোটের সব শরিককে দেখা যায়নি। আম আদমি পার্টি এবং ডিএমকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়নি। যদিও বিজু জনতা দল, যা ইন্ডিয়া জোটের অংশ নয়, এই মিছিলে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। ফলে বিরোধীদের এই আন্দোলন যতই জোরদার হোক, জোটের অভ্যন্তরে এই ইস্যুতে পূর্ণ ঐক্য এখনও দেখা গেল না।

এর মধ্যেই দিল্লির রাজপথে রাহুল গান্ধীদের এই মিছিল স্পষ্ট করে দিয়েছে, এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানিতে Form 6 পরিবর্তনের নেপথ্যে কার ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে আট ঘণ্টা ধরে আকাশবাণী ভবনে বিরোধীদের অবস্থান

Gyanesh Kumar Resignation Demand: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বন্ধের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভে নামে ইন্ডিয়া জোট। নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে বিরোধী সাংসদদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। ব্যারিকেড টপকে আকাশবাণী ভবনে পৌঁছন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ নেতারা। অখিলেশ যাদব, ডেরেক ও’ব্রায়েন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়।

অভিজিৎ, সৌরভ, আশুতোষ গ্রেফতার হলেই থেমে যাবে আন্দোলন?

Possible detention of cockroaches:যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কে.পি. বসু মেমোরিয়াল হলে, বাম ছাত্রসংগঠনগুলির ‘জেন-জি আন্দোলন’ কনভেনশনে উপস্থিত হলেন, আইসা-র নেহা বোরা ও এসএফআই-এর সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁদের দাবি, এসআইআর প্রত্যাহার, এনইপি বাতিল, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। অন্যদিকে ঘনাচ্ছে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারির আশঙ্কা। এরই মাঝে, ১০ অক্টোবর বড় সমাবেশের ডাক দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। নেতৃত্বহীন জনগণ কি চালিয়ে যেতে পারবে আন্দোলন?

নন্দীগ্রামে প্রতীকহীন তৃণমূল, রেজিনগরে গ্রেফতার হুমায়ুন: কেমন হচ্ছে উপনির্বাচন?

Nandigram Rejinagar by - election 2026: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রে ১৮,৮৯৫টি ভোটার আপিল হয়েছে, নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৯০টিতে। অযোগ্য ভোটার হিসাবে ঘোষিতদের, ৯৪-৯৫ শতাংশ মুসলিম। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের নিজের প্রতীক নেই, কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে রেজিনগরে, ভোট চলাকালীন, হুমায়ুন কবীর গ্রেফতার হয়েছেন। উপনির্বাচনের ফল জানা যাবে, ৯ অক্টোবর।

ফর্ম ৬ বদলের অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট: তাহলে বদল করল কে?

Supreme Court on Form 6 Changes: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আদালত অনুমোদন করেনি। তাহলে ফর্ম ৬-এ অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিল? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে আদালত।

ব্রাজিলের ভোটে লুলার ধাক্কা, ফ্লাভিওর উত্থান: কেন বদলাচ্ছে সমীকরণ?

Brazil presidential election 2026: প্রথম দফায় ফ্লাভিওর প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা ছিল কার্যত অপ্রত্যাশিত। কারণ, অধিকাংশ প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষাতেই লুলাকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভোটের এই সংখ্যার আড়ালে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—কেন বোলসোনারোবাদ এখনও এতটা শক্তিশালী?

‘দিল্লিতে রক্ত ঝরলে কলকাতাও আঘাত পায়’: যাদবপুরে নেহা বোরার কণ্ঠে প্রতিরোধের ঐক্যের বার্তা

Neha Bora Jadavpur University: নেহার কথায়, “আমার গলার অবস্থা, আমার শরীরের অবস্থা যা—ঠিক একই পরিস্থিতি আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI)। আর এই যন্ত্রণা যদি কেউ বুঝতে পারে, তবে দিল্লির রাজপথে যাদের রক্ত ঝরেছে, যাদবপুরে যাদের উপর হামলা হয়েছে, এসআরএফটিআই-তে যাদের উপর আক্রমণ হয়েছে—আমরাই একে অপরের ব্যথা সবচেয়ে ভালো বুঝি।”

‘যেই আসে লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’: আসলে কেমন শাসক ছিলেন আসলে লঙ্কেশ?

Ravana character analysis: ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন মানুষ কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিতে জেরবার, তখন ১৮৬১ সালে প্রকাশিত 'মেঘনাদ বধ কাব্য' সমাজকে একদম গোড়া থেকে নাড়িয়ে দিল। শিক্ষিত যুবক সমাজকে ভাবতে বাধ্য করল এই মহাকাব্য।