জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে আট ঘণ্টা ধরে আকাশবাণী ভবনে বিরোধীদের অবস্থান
Gyanesh Kumar Resignation Demand: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বন্ধের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভে নামে ইন্ডিয়া জোট। নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে বিরোধী সাংসদদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। ব্যারিকেড টপকে আকাশবাণী ভবনে পৌঁছন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ নেতারা। অখিলেশ যাদব, ডেরেক ও’ব্রায়েন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়।
দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে বিরোধী সাংসদদের মিছিল আটকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বন্ধের দাবিতে ৬ অক্টোবর কেন্দ্রীয় দিল্লিতে বিক্ষোভে নামে ইন্ডিয়া জোট। পুলিশ মিছিল আটকে দেওয়ার পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ একাধিক বিরোধী নেতা।
সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর নির্বচন সদনের দিকে মিছিল করে যাওয়ার কর্মসূচি ছিল বিরোধী সাংসদদের। তাঁদের মূল দাবি ছিল, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের উদ্বেগের কথা শুনতে হবে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু সংসদ স্ট্রিটের কাছে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয়। এরপর বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে পুলিশের দীর্ঘক্ষণ ধরে টানাপোড়েন চলে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন রাহুল গান্ধী একটি পুলিশ ব্যারিকেড টপকে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং অন্যান্য বিরোধী নেতারাও। পরে তাঁরা আকাশবাণী ভবনের চত্বরে প্রবেশ করেন। সেখানেই অবস্থান শুরু করেন তাঁরা। রাত পর্যন্ত সেই অবস্থান-বিক্ষোভ চলতে থাকে।
বিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও কয়েকজন নেতা। পুলিশি বাধার কারণে নির্বাচন কমিশনের দফতরে পৌঁছতে না পেরে বিরোধী নেতারা আকাশবাণী ভবনেই অবস্থান চালিয়ে যান।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Supreme Court on Form 6 Changes: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আদালত অনুমোদন করেনি। তাহলে ফর্ম ৬-এ অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিল? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে আদালত।
রাহুল গান্ধীর দাবি, প্রায় ৩০০ জন বিরোধী সাংসদ নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য সরাসরি কমিশনের সামনে তুলে ধরাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু কেন তাঁদের নির্বাচন কমিশনের দফতরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাহুল।
রাহুলের প্রশ্ন, দেশের বিরোধী দলের এতজন সাংসদ যদি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চান, তাহলে তাঁদের আটকানো হচ্ছে কেন? ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিরোধীদের বক্তব্য শোনার সুযোগ কমিশনের দেওয়া উচিত বলেও দাবি করেন তিনি।
যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন কমিশনের কাছে পৌঁছয়নি। ফলে বিরোধীদের দাবি এবং কমিশনের বক্তব্য নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
এদিকে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামার পরেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। আকাশবাণী ভবনের আশপাশে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা আরএএফ। সেই নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই অবস্থান চালিয়ে যান রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্যান্য বিরোধী নেতারা।
এসআইআর নিয়ে ইতোমধ্যেই বিরোধী দলগুলির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংঘাত তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া, ভোটারদের তথ্য যাচাই এবং সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, এসআইআর-এর মাধ্যমে প্রকৃত ভোটারদের নামও বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কমিশন অবশ্য ভোটার তালিকা শুদ্ধ করার জন্যই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে।
এখন দেখার, বিরোধীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক হয় কি না এবং এসআইআর নিয়ে চলা এই বিরোধ কোন পথে এগোয়।






