ফর্ম ৬ বদলের অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট: তাহলে বদল করল কে?

Supreme Court on Form 6 Changes: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আদালত অনুমোদন করেনি। তাহলে ফর্ম ৬-এ অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিল? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে আদালত।

inscript
৩ মিনিট
ফর্ম ৬ বদলের অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট: তাহলে বদল করল কে?

ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলার জন্য যে ফর্ম ব্যবহার করা হয়, সেই ফর্ম ৬ নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ফর্ম ৬-এর কোনো পরিবর্তনকে সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদন করেনি। আদালতে নির্বাচন কমিশনের নথি এলে, কে বা কারা ওই পরিবর্তন করেছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশেষ নিবিড় সংশোধন-কে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যখন একের পর এক প্রশ্ন উঠছে, তখন এই পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, চলতি বছরে অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণ করার সময় নতুন ভোটারদের কাছে এমন কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছিল, যা মূল বিধিবদ্ধ ফর্মে ছিল না।

ফর্ম ৬ কী?

নির্বাচনী তালিকায় নতুন ভোটারের নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ ব্যবহার করা হয়। এই ফর্মের কাঠামো Registration of Electors Rules, 1960-এর অধীনে নির্ধারিত। অভিযোগ, ২০২৬ সালে নির্বাচন কমিশনের ECINet পোর্টালে ফর্ম ৬-এর অনলাইন সংস্করণে একটি অতিরিক্ত অংশ যুক্ত করা হয়েছিল।

সেখানে আবেদনকারীকে জানাতে হচ্ছিল, তিনি নিজে অথবা তাঁর বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদি আগের এসআইআর-এর সময় প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ছিলেন কি না। থাকলে তাঁদের নাম, বুথ এবং ক্রমিক নম্বরের মতো তথ্যও চাওয়া হচ্ছিল। ফলে নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একটি শর্ত তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

এই অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র নিয়েই মূল বিতর্ক। কারণ, অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ফর্ম ৬-এর মতো বিধিবদ্ধ ফর্মে এই ধরনের পরিবর্তন আনতে হলে সংশ্লিষ্ট নিয়মে আনুষ্ঠানিক সংশোধন প্রয়োজন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরও চাপে জ্ঞানেশ কুমার, দু'দশকের পুরনো মামলায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ

Gyanesh Kumar Under Scrutiny: ২০০৬ সালে কেরলের পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সচিব থাকাকালীন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেরল সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোকে এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তদন্তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী মে মাসে জানিয়েছিলেন, Registration of Electors Rules, 1960 সংশোধন না করে ফর্ম ৬ বদলানো যায় না। অন্য নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধুও সেই বক্তব্যে সম্মতি জানিয়েছিলেন।

অর্থাৎ, কমিশনের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছিল, নিয়ম না বদলে অনলাইন ফর্মে কীভাবে নতুন শর্ত যোগ করা হল। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, আপত্তি সত্ত্বেও পরিবর্তিত ফর্ম অনলাইন পোর্টালে চালু ছিল।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ছিল কিছুটা ভিন্ন। ২৬ সেপ্টেম্বরের এক বিবৃতিতে কমিশন জানায়, এসআইআর-এর সময় ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে সুপ্রিম কোর্টের মে মাসের রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবেই ব্যবহার করা হয়েছে। এসআইআর-এর সময় শেষ হলে অবশ্য ১৯৬০ সালের নিয়ম অনুযায়ী মূল ফর্ম ব্যবহার করা হবে বলে জানায় কমিশন।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

এই বক্তব্যের পরেই ৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি ওঠে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে মামলাটি শুনানি হয়। বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা।

শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী ফর্ম ৬-এ যুক্ত অতিরিক্ত শর্তের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দিল্লির মতো জায়গায় নতুন শর্ত-সহ ফর্ম ব্যবহার করা হয়েছিল এবং তার ভিত্তিতে নতুন ভোটারদের নাম তোলার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। এর পরেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, পরিবর্তিত ফর্ম ৬-কে সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদন করেনি। আদালতের কাছে সংশ্লিষ্ট নথি এলে কে কী পরিবর্তন করেছে, তা দেখার কথাও বলেন তিনি।

প্রশ্ন উঠছে, যদি সুপ্রিম কোর্ট পরিবর্তিত ফর্ম ৬ অনুমোদন না করে থাকে এবং নিয়ম সংশোধনেরও কোনো প্রক্রিয়া না হয়ে থাকে, তাহলে অনলাইন পোর্টালে অতিরিক্ত অংশটি কীভাবে এল?

এরই মধ্যে এসআইআর শেষ হয়ে যাওয়া রাজ্যগুলিতে ECINet পোর্টাল থেকে ফর্ম ৬-এর ওই অতিরিক্ত ঘোষণাটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর বিরোধী দলগুলি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আরও সরব হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একতরফাভাবে ফর্ম ৬ বদলেছেন। বিজেপি অবশ্য সেই অভিযোগ খারিজ করে বলেছে, প্রধান বিচারপতি ফর্ম ৬-কে বেআইনি বলেননি এবং বিরোধীরা আদালতের বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।

নির্বাচন কমিশনও রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছে। কমিশনের বক্তব্য, বিহারে এসআইআর-এর নির্দেশ সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছিল এবং সুপ্রিম কোর্টও সেই এসআইআর-এর বিষয়টি ২০২৬ সালের ২৭ মে-র রায়ে বহাল রেখেছে।

তবে আদালতের ৫ অক্টোবর করেছে—এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আগের রায়কে দেখিয়ে ফর্ম ৬-এর পরিবর্তনকে আদালতের অনুমোদিত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। এখন নির্বাচন কমিশনের নথি সামনে আসার অপেক্ষা। সেই নথিতেই হয়তো মিলতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তর—ফর্ম ৬-এ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি ঠিক কোথা থেকে এল, কার অনুমোদনে এল এবং কেন তা করা হলো।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে আট ঘণ্টা ধরে আকাশবাণী ভবনে বিরোধীদের অবস্থান

Gyanesh Kumar Resignation Demand: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বন্ধের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভে নামে ইন্ডিয়া জোট। নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে বিরোধী সাংসদদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। ব্যারিকেড টপকে আকাশবাণী ভবনে পৌঁছন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ নেতারা। অখিলেশ যাদব, ডেরেক ও’ব্রায়েন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়।

অভিজিৎ, সৌরভ, আশুতোষ গ্রেফতার হলেই থেমে যাবে আন্দোলন?

Possible detention of cockroaches:যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কে.পি. বসু মেমোরিয়াল হলে, বাম ছাত্রসংগঠনগুলির ‘জেন-জি আন্দোলন’ কনভেনশনে উপস্থিত হলেন, আইসা-র নেহা বোরা ও এসএফআই-এর সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁদের দাবি, এসআইআর প্রত্যাহার, এনইপি বাতিল, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। অন্যদিকে ঘনাচ্ছে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারির আশঙ্কা। এরই মাঝে, ১০ অক্টোবর বড় সমাবেশের ডাক দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। নেতৃত্বহীন জনগণ কি চালিয়ে যেতে পারবে আন্দোলন?

নন্দীগ্রামে প্রতীকহীন তৃণমূল, রেজিনগরে গ্রেফতার হুমায়ুন: কেমন হচ্ছে উপনির্বাচন?

Nandigram Rejinagar by - election 2026: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রে ১৮,৮৯৫টি ভোটার আপিল হয়েছে, নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৯০টিতে। অযোগ্য ভোটার হিসাবে ঘোষিতদের, ৯৪-৯৫ শতাংশ মুসলিম। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের নিজের প্রতীক নেই, কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে রেজিনগরে, ভোট চলাকালীন, হুমায়ুন কবীর গ্রেফতার হয়েছেন। উপনির্বাচনের ফল জানা যাবে, ৯ অক্টোবর।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুলদের মিছিল, পুলিশের বাধায় ধর্না বিরোধীদের

Opposition March to EC Office: এসআইআর ও ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করলেন রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়াা জোটের বিরোধী সাংসদরা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ স্লোগান ওঠে। তবে কমিশনের দফতরে পৌঁছনোর আগেই মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।

ব্রাজিলের ভোটে লুলার ধাক্কা, ফ্লাভিওর উত্থান: কেন বদলাচ্ছে সমীকরণ?

Brazil presidential election 2026: প্রথম দফায় ফ্লাভিওর প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা ছিল কার্যত অপ্রত্যাশিত। কারণ, অধিকাংশ প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষাতেই লুলাকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভোটের এই সংখ্যার আড়ালে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—কেন বোলসোনারোবাদ এখনও এতটা শক্তিশালী?

‘দিল্লিতে রক্ত ঝরলে কলকাতাও আঘাত পায়’: যাদবপুরে নেহা বোরার কণ্ঠে প্রতিরোধের ঐক্যের বার্তা

Neha Bora Jadavpur University: নেহার কথায়, “আমার গলার অবস্থা, আমার শরীরের অবস্থা যা—ঠিক একই পরিস্থিতি আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI)। আর এই যন্ত্রণা যদি কেউ বুঝতে পারে, তবে দিল্লির রাজপথে যাদের রক্ত ঝরেছে, যাদবপুরে যাদের উপর হামলা হয়েছে, এসআরএফটিআই-তে যাদের উপর আক্রমণ হয়েছে—আমরাই একে অপরের ব্যথা সবচেয়ে ভালো বুঝি।”

‘যেই আসে লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’: আসলে কেমন শাসক ছিলেন আসলে লঙ্কেশ?

Ravana character analysis: ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন মানুষ কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিতে জেরবার, তখন ১৮৬১ সালে প্রকাশিত 'মেঘনাদ বধ কাব্য' সমাজকে একদম গোড়া থেকে নাড়িয়ে দিল। শিক্ষিত যুবক সমাজকে ভাবতে বাধ্য করল এই মহাকাব্য।