‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

inscript
৫ মিনিট
‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ফের সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ২৪ সেপ্টেম্বর করা সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর দাবি, দেশের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে।

তাঁর কথায়,

আমি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত, নির্বাচনে কারচুপি হচ্ছে। সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে।

একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে কার্যত অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে? তাঁর অভিযোগ, ভোটাধিকার খর্ব করা হলে শুধু নির্বাচনী ব্যবস্থাই নয়, সংবিধান, আইন প্রণয়ন এবং দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিও দুর্বল হয়ে পড়ে।

নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই এই সাংবাদিক বৈঠক করেন কংগ্রেস নেতা। নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’। সেই প্রতিবেদন সামনে আসার পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, ভোট রক্ষা করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার প্রভাব পড়বে গোটা সাংবিধানিক ব্যবস্থার উপর।

সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো সরকারের বিরুদ্ধেই চিরকাল জনসমর্থন বজায় থাকে না। সময়ের সঙ্গে সরকারের কাজ, নীতি, সিদ্ধান্ত এবং মানুষের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শাসক দলের প্রতি সমর্থন বাড়ে বা কমে। এই প্রক্রিয়াতেই তৈরি হয় অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি বা সরকারবিরোধী মনোভাব।

রাহুলের বক্তব্য, ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। কোনো সরকার ক্ষমতায় থাকার পর একসময় তার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির ক্ষেত্রে সেই প্রবণতা কেন দেখা যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

রাহুল বলেন,

“আমরা কোনো ব্যক্তির জনপ্রিয়তা বুঝতে পারি, কোনো সরকারের কাজকর্মও বুঝতে পারি। কিন্তু সরকারবিরোধী মনোভাব কীভাবে উধাও হয়ে যায়, তা বুঝতে পারি না।”

তাঁর মতে, একের পর এক রাজ্যে নির্বাচনী সমর্থনের ওঠানামা এবং একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত জনবিরোধিতা না দেখা যাওয়ার বিষয়টি কংগ্রেসের কাছে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই তাঁরা নির্বাচনী ব্যবস্থার মধ্যে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এনেছেন বলে দাবি করেন রাহুল।

তবে অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি বলতে সবসময় শাসক দলের বিরুদ্ধে ভোট পড়াকেই বোঝায় না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের কাজ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা, নেতৃত্বের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ এবং বিভিন্ন নীতির প্রভাব—একাধিক বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত। কোনো নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল পুনরায় জয়ী হলেই যে নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। নির্বাচনী ফলাফলের পাশাপাশি ভোটারদের পছন্দ, রাজনৈতিক সংগঠন এবং সরকারের কাজের মূল্যায়নও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

সরকারবিরোধী মনোভাব নিয়ে নিজের বক্তব্য বোঝাতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর উদাহরণ তুলে ধরেন রাহুল। তাঁর কথায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের জয়ের পরেও ইন্দিরা গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল জনবিরোধিতা তৈরি হয়েছিল।

রাহুলের দাবি, বাংলাদেশের যুদ্ধে সাফল্য অর্জনের পরেও এক-দু’বছরের মধ্যে ইন্দিরা গান্ধীকে ব্যাপক সরকারবিরোধী চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। অর্থাৎ, কোনো বড় রাজনৈতিক বা সামরিক সাফল্য থাকলেও তার ফলে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় না।

তিনি বলেন,

একই ঘটনা একের পর এক নেতার ক্ষেত্রে ঘটেছে। কিন্তু কোনো কারণে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ বা বিজেপির ক্ষেত্রে তা ঘটছে না।

এখানেই তাঁর মূল প্রশ্ন, গণতন্ত্রে সরকারবিরোধী মনোভাব যদি একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হয়, তা হলে বিজেপির ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া কেন কার্যকর হচ্ছে না? রাহুলের মতে, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে ইন্দিরা গান্ধীর শাসনকালের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির তুলনা করতে গেলে সেই সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটও বিবেচনা করতে হবে। রাহুলের বক্তব্য মূলত বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর তাঁর রাজনৈতিক অভিযোগের অংশ।

সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি কথিত ভিডিও দেখান রাহুল গান্ধী। ওই ভিডিওতে অমিত শাহকে বলতে শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়, বিজেপি আগামী ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকবে। এই মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে রাহুল বলেন,

আমি একটি রাজনৈতিক পরিবার থেকে এসেছি। কোনো রাজনৈতিক নেতা এ ধরনের কথা বলতে পারেন না।

তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে আগামী তিন দশক ক্ষমতায় থাকার বিষয়ে নিশ্চিত ঘোষণা করা সম্ভব নয়। কারণ, নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ভোটাররাই সিদ্ধান্ত নেন কোন দল ক্ষমতায় থাকবে।

রাহুলের এই বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্ন। তাঁর মতে, নির্বাচনে কোনো দল কত দিন ক্ষমতায় থাকবে, তা আগে থেকে নির্ধারিত থাকতে পারে না। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠিত হয় এবং সেই ভোটের উপরই গণতন্ত্রের ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে। অমিত শাহের কথিত ভিডিওর সত্যতা বা সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট নিয়ে এই প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য নেই। ফলে ভিডিওতে ঠিক কী বক্তব্য রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে মূল ভিডিও এবং তার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট দেখা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের খবরকে সামনে রেখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের পছন্দেই জ্ঞানেশ কুমার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পেয়েছেন। এখন কমিশনেরই দুই সদস্য তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

রাহুলের দাবি, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-সহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক নির্দেশ নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশনের কাজের পদ্ধতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বেড়েছে।

রাহুলের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব, ভোটাধিকার রক্ষা করা। কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী সুবিধা নিশ্চিত করা নয়। তাঁর অভিযোগ, কমিশন যদি ভোট রক্ষার দায়িত্ব পালন না করে, তা হলে নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।

তবে কমিশনের দুই সদস্যের আপত্তি সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়া এবং নির্বাচনে কারচুপি প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। আপত্তিগুলি ঠিক কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে, কী কারণে জানানো হয়েছিল এবং তার ফলে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কী প্রভাব পড়েছিল, তা নির্দিষ্ট নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করা প্রয়োজন।

রাহুল গান্ধীর সাংবাদিক বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ভোটাধিকার এবং সংবিধানের সম্পর্ক নিয়ে তাঁর বক্তব্য।

তাঁর মতে, ভোটের মাধ্যমেই সংবিধান কার্যকর হওয়ার রাজনৈতিক শক্তি পায়। জনগণের ভোটের ভিত্তিতে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন। সেই জনপ্রতিনিধিরাই সংসদ ও বিধানসভায় আইন তৈরি করেন। ফলে ভোটের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়ে আইন প্রণয়ন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপরেও। রাহুল বলেন,

ভোট থেকেই সংবিধান শক্তি পায়, আর সংবিধান থেকেই আমাদের আইন তৈরি হয়।

তাঁর অভিযোগ, ভোট যদি নষ্ট করা হয়, তা হলে সংবিধানও তার কার্যকর শক্তি হারায়। আর সংবিধান দুর্বল হলে আইন প্রণয়ন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিও আক্রমণের মুখে পড়ে।

এই প্রসঙ্গে তিনি ‘ভোট চুরি’, ‘আইন চুরি’ এবং ‘প্রতিষ্ঠান চুরি’—এই তিনটি বিষয়কে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর বক্তব্য,

ভোট চুরি থেকে আইন চুরি হয়, আইন চুরি থেকে প্রতিষ্ঠান চুরি হয়।

রাহুলের দাবি, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সাংসদদের বৈধতা নিয়েই যদি প্রশ্ন ওঠে, তা হলে সংসদে তাঁদের তৈরি করা আইন এবং গোটা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তিনি বলেন, ভোটের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংসদে থাকা সাংসদদের নির্বাচিত হওয়ার ভিত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এখানে রাহুলের বক্তব্যের মূল বিষয়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি। ভোটাররা যাতে কোনো বাধা ছাড়াই নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন এবং সেই ভোট যাতে সঠিকভাবে গণনা করা হয়, তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলার পাশাপাশি রাহুল দাবি করেন, তাঁর হাতে যথেষ্ট তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। তিনি বলেন, এই অভিযোগ তিনি কোনো ভিত্তি ছাড়া করছেন না।

তাঁর কথায়,

আমি হাওয়ায় কথা বলছি না। আমি প্রমাণ দেখিয়েছি। এমন যথেষ্ট তথ্য ইতোমধ্যেই রয়েছে, যা থেকে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হওয়া যায় যে ভারতের নির্বাচন, লোকসভা নির্বাচন, ২০২৪ সালের নির্বাচন এবং বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে কারচুপি হচ্ছে।

সাংবাদিক বৈঠকে শিল্পপতি গৌতম আদানি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত, অমিত শাহ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ছবি দেখান তিনি। তাঁদের ‘ষড়যন্ত্রকারী’ বলে উল্লেখ করেন রাহুল।

তাঁর অভিযোগ, এই ব্যক্তিরা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করার সঙ্গে যুক্ত। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমন কোনো স্বাধীন তদন্তের ফলাফল বা আদালতের সিদ্ধান্ত ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

রাহুল আরও বলেন, দেশের ভোটাধিকার নষ্ট করার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং অমিত শাহের বিরুদ্ধে নির্বাচন চুরির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের তদন্ত হবে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস গণতন্ত্রকে ধ্বংস হতে দেবে না এবং এই বিষয়ে নীরব থাকবে না।

ভোটাধিকার নষ্ট করার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে ‘দেশদ্রোহী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, ভোটাধিকার খর্ব করা দেশের মানুষের বিরুদ্ধে এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করার সমান।

এই অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের জন্য অবশ্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট তথ্য, নথি এবং স্বাধীন তদন্ত। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নগুলির নিষ্পত্তি শেষ পর্যন্ত প্রমাণ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই হওয়া প্রয়োজন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?