সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন
Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।
এই দাবিগুলি সামনে এসেছে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে। সিজেপি এই তিনটি দাবিকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে সিজেপির দাবিগুলি শুধু পদত্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইনি কাঠামো নিয়েও একাধিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
নির্বাচন কমিশনের কাছে কী কী দাবি সিজেপির?
২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে সিজেপি তাদের দাবিগুলি সামনে আনে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করা হবে। দিল্লির যন্তর মন্তরেও অবস্থান বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
SIR Appeals: এসআইআর-এর পর পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে জমা পড়া আপিলের মধ্যে পাঁচ মাসে মাত্র ১.২৬ লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমান গতিতে কাজ চললে বাকি ৩৭ লক্ষেরও বেশি আপিল নিষ্পত্তি করতে প্রায় ১২ বছর সময় লাগতে পারে।
প্রথম দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার দায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিতে হবে। সেই কারণেই তাঁর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দাবি, জ্ঞানেশ কুমার এবং তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু করতে হবে। অর্থাৎ, শুধু পদত্যাগ করলেই হবে না, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও চায় সিজেপি। তবে এই অভিযোগগুলি সংগঠনের দাবি, কোনো আদালতের প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত নয়।
তৃতীয় দাবি, আগামী সমস্ত নির্বাচন আপাতত স্থগিত রাখতে হবে। সিজেপির বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনগুলি বন্ধ রাখা উচিত। নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ব্যবস্থার অধীনে ভোট হলে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেই সংগঠনটির দাবি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?
এসআইআর নিয়ে কী দাবি?
নির্বাচন কমিশনের চলতি বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও একাধিক দাবি জানিয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করে ভোটার তালিকাকে ২০২৫ সালের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। অর্থাৎ, সংশোধনের মাধ্যমে যে পরিবর্তনগুলি করা হয়েছে, সেগুলি প্রত্যাহার করে আগের ভোটার তালিকা পুনর্বহাল করতে হবে।
পাশাপাশি, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও ফাইল সুপ্রিম কোর্টের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটির হেফাজতে রাখার দাবি জানিয়েছে সিজেপি। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কীভাবে ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং সেই সংক্রান্ত নথি কীভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে, তা নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই দাবি বলে সংগঠনটির বক্তব্য।
এই দাবিগুলির পটভূমিতে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর ২৩ সেপ্টেম্বরের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী অন্তত ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি নথিভুক্ত করেছেন। ফর্ম ৬, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন এবং ইআরও-নেট ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আপত্তি ওঠে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর-সহ তাদের সমস্ত সিদ্ধান্তই তিন কমিশনারের সম্মতিতে নেওয়া হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, কোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই ধরনের মতামত প্রক্রিয়ার অংশ।
এই পরিস্থিতিতে সিজেপির দাবিগুলি কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ থেকে শুরু করে এসআইআর স্থগিত রাখা এবং নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার—সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক আরও সামনে এসেছে।





