যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে কপিল সিব্বল, প্রশান্ত ভূষণ: ১,০০০-র বেশি আটক, দায়ের ৩ মামলা
Jantar Mantar protest: এসআইআর-এর প্রতিবাদে ১,০০০-র বেশি মানুষকে আটক করা হলো। কেন তিনটি এফআইআর দায়ের করল দিল্লি পুলিশ?
২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীতে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও এই কর্মসূচিতে যোগ দেন।
তবে দিল্লি পুলিশ এই প্রতিবাদের অনুমতি দেয়নি। পুলিশ জানিয়েছিল, ২ অক্টোবর নিউ দিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা-এর ১৬৩ ধারা জারি ছিল। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, ধর্না, বিক্ষোভ, স্লোগান দেওয়া বা বক্তৃতা করা নিষিদ্ধ ছিল। প্রতিবাদ ঠেকাতে যন্তর মন্তর এবং আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
পুলিশি বাধা অতিক্রম করে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন বহু আন্দোলনকারী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আপ নেত্রী অতিশী, সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা, সঞ্জয় সিং, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পুলিশ সূত্রের হিসাবে ২ অক্টোবর দিল্লি জুড়ে প্রায় ১,০০০ জনকে আটক করা হয়। শুধু যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকেই কয়েকশো মানুষকে আটক করা হয়েছিল।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gandhi Jayanti 2026: সত্যাগ্রহ, অহিংসা, অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনের যে রাজনৈতিক ভাষা গান্ধী তৈরি করেছিলেন, তা স্বাধীনতার পরও ভারতের প্রতিবাদ রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে। এসআইআর-বিরোধী আন্দোলন কীভাবে সেই উত্তরাধিকারকেই নতুন ভাবে সামনে আনল?
তিনটি এফআইআর দায়ের
২ অক্টোবর প্রতিবাদের পর দিল্লি পুলিশ তিনটি এফআইআর দায়ের করেছে। এর মধ্যে দুটি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় এবং একটি কনট প্লেস থানায় দায়ের হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২২৩ ধারায় এই মামলা করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীর জারি করা নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে এই ধারা ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এফআইআরে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে নির্দিষ্ট করে অভিযুক্ত করা হয়নি। তবে প্রতিবাদের আয়োজক এবং অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলির উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য, নিউ দিল্লি জেলায় আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। সেই পরিস্থিতিতে অনুমতি ছাড়া জমায়েত এবং বিক্ষোভ করায় এফআইআর করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে ২২৩ ধারায় কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রয়েছে।
২ অক্টোবর আটক ও পুলিশের বাধার পরেও আন্দোলন থামেনি। শনিবার, ৩ অক্টোবর ফের যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল, প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদব এবং AISA-র সভাপতি নেহা বোরা। পুলিশ ফের বেশ কয়েকজনকে আটক করে। দ্য প্রিন্টের PTI-ভিত্তিক প্রতিবেদনে প্রায় ১৫০ জনকে আটকের কথা বলা হয়েছে।
এই প্রতিবাদের সঙ্গে SIR-এর বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের অবস্থান, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া আইন মেনেই চলছে।







