ব্রিকস সম্মেলনে ভারত কী পেল, কী পেল না?

BRICS Summit 2026: ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলন থেকে ভারত ঠিক কী পেল? কূটনীতি, বাণিজ্য, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সন্ত্রাসবাদ ও গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ভারতের কতটা লাভ হলো? চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিলতার মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে ভারত নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারল, আর কোন প্রত্যাশাগুলি পূরণ হলো না?

inscript
৫ মিনিট
ব্রিকস সম্মেলনে ভারত কী পেল, কী পেল না?

দিল্লিতে ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলন এমন এক সময়ে হলো, যখন যুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য-সংঘাত ও শুল্কনীতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে ছিল একাধিক লক্ষ্য। গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করা, চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি তোলা এবং একই সঙ্গে পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি নষ্ট না করে বহুমুখী কূটনীতির জায়গা ধরে রাখা।

দু'দিনের সম্মেলনের শেষে ভারত অবশ্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে। তবে ভারতের সব প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে, এমনটা বলা যাবে না। ব্রিকস এখনও এমন একটি মঞ্চ, যেখানে সদস্য দেশগুলির স্বার্থ এক নয়, রাজনৈতিক অবস্থানও এক নয়। ভারত, চিন, রাশিয়া, ইরান, ব্রাজিল বা সংযুক্ত আরব আমিরশাহি—সব দেশেরই নিজস্ব হিসেব রয়েছে। ফলে যৌথ ঘোষণাপত্রে ঐকমত্য তৈরি হওয়াই অনেক সময় সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়।

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ ও তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পরস্পরবিরোধী স্বার্থসম্পন্ন দেশগুলিকে একই ঘোষণাপত্রে সম্মত করানো সহজ ছিল না। কিন্তু দিল্লি সম্মেলনে শেষ পর্যন্ত একটি যৌথ অবস্থান তৈরি হয়েছে।

ঘোষণাপত্রে সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে এবং এমন কোনো পদক্ষেপ না করার কথা বলা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিনিধির বৈঠকও ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এখানেই ভারতের একটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে। চিনের সঙ্গে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, আবার আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গেও দিল্লির অর্থনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ভারত নিজেকে কোনো একটি শিবিরের অংশ হিসেবে তুলে ধরার পরিবর্তে একাধিক পক্ষের মধ্যে কথাবার্তার জায়গা তৈরি করতে চায়। দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন সেই ভূমিকাকে কিছুটা হলেও শক্তিশালী করেছে।

ভারত পেয়েছে গ্লোবাল সাউথের মুখপাত্র হওয়ার আরও একটি সুযোগ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলনে বারবার বহুমেরু বিশ্বের কথা বলেছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি ব্রিকসের দীর্ঘদিনের বক্তব্য। ভারতের কাছেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দিল্লি বহুদিন ধরেই রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের দাবি জানিয়ে আসছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৭.৮% জিডিপি বৃদ্ধি, সত্যিই এতটা ভালো আছে ভারতের অর্থনীতি?

India GDP Growth: সরকারের দাবি অনুযায়ী ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮%—কিন্তু এই পরিসংখ্যান কতটা বাস্তব? ভিত্তিবর্ষ বদল, নমিনাল ও রিয়াল জিডিপির হিসাব এবং সরকারি তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তা কি নিছক রাজনৈতিক বিতর্ক? চাকরি, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের দুর্বল ছবির সঙ্গে ৭.৮% বৃদ্ধির এই হিসাব কি সত্যিই সামঞ্জস্যপূর্ণ?

যৌথ ঘোষণাপত্রে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি এবং বহুমেরু বিশ্বের পক্ষে অবস্থান ভারতকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দিয়েছে। তবে এখানেও একটি সীমাবদ্ধতা রয়ে গিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি নিয়ে ব্রিকসের বক্তব্য যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, সম্মেলনের ঘোষণাপত্র নিজে ভারতের হাতে কোনো স্থায়ী আসন তুলে দিতে পারবে না। তার জন্য প্রয়োজন বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ঐকমত্য এবং বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের রাজনৈতিক সম্মতি। ফলে ভারত এই সম্মেলন থেকে নিজের দাবির পক্ষে সমর্থনের পরিবেশ পেয়েছে, কিন্তু চূড়ান্ত সাফল্য পায়নি।

অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ভারতের কিছু প্রাপ্তি রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও সীমান্ত পেরিয়ে অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। ব্রিকস দেশগুলি নিজেদের জাতীয় পেমেন্ট সিস্টেমগুলিকে আরও কাছাকাছি আনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের কথাও যৌথ ঘোষণাপত্রে গুরুত্ব পেয়েছে। নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়ন বাড়ানোর কথাও আলোচনায় এসেছে।

এটি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের উপর নির্ভরতা কমানোর প্রশ্নে ভারত একেবারে ডলার-বিরোধী অবস্থান নেয়নি। কিন্তু একাধিক মুদ্রায় বাণিজ্য ও অর্থপ্রদানের সুযোগ বাড়লে ভারতের মতো অর্থনীতির সামনে বিকল্প তৈরি হয়। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন একতরফা নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্যিক বাধা এবং আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানের ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ বাড়ছে।

কিন্তু ভারত যা পায়নি, তার মধ্যে অন্যতম হলো একটি একক ব্রিকস মুদ্রা। বহুদিন ধরেই ব্রিকসের নিজস্ব মুদ্রা নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে। কিন্তু দিল্লি সম্মেলনেও সেই পথে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং বাস্তবসম্মত পথ হিসেবে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য এবং পেমেন্ট সিস্টেমের মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে।

একদিকে, ভারতের হঠাৎ কোনো নতুন আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থায় ঢুকে পড়ার ঝুঁকি নেই। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থায় সত্যিকারের বিকল্প তৈরি করার যে বড় স্বপ্ন ব্রিকসকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল, তার বাস্তব রূপ এখনও অনেক দূরে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদির 'বিকশিত ভারতে'র দাবি আদৌ সত্য? আসলে যেখানে দাঁড়িয়ে দেশের অর্থনীতি

Economy of India: এখন আম্বানিদের এই বিপুল বৈভবে বিকশিত ভারতের নাগরিক হিসাবে আমাদের গর্বিত করবে না কি ৬৭ লক্ষ শিশুর এই ক্ষুধা একজন দেশবাসী হিসাবে আমাকে লজ্জিত করবে তার উপর কিন্তু নির্ভর করবে আমাদের উন্নয়ন সম্পর্কিত ধারণা।

ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও কিছু সুবিধা পেয়েছে। সম্মেলনের আগে ও চলাকালীন ভারত বারবার সদস্য দেশগুলির মধ্যে বাজার খোলা, নিয়ন্ত্রণমূলক জটিলতা কমানো এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যের কথা বলেছে। ভারতের লক্ষ্য ছিল ব্রিকসের বিশাল বাজারকে ভারতীয় পণ্য, পরিষেবা, ওষুধ, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিজিটাল ক্ষেত্রের জন্য আরও কার্যকর করে তোলা। ভারতীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ গত দুই দশকে ব্যাপক বেড়েছে।

কিন্তু এখানেও ভারতের একটি বড় সমস্যা রয়ে গিয়েছে—চিনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি। ব্রিকসের মধ্যে অর্থনৈতিক শক্তির বিচারে চিনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। ভারত ও চিন একই মঞ্চে থাকলেও তাদের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। ব্রিকসের অভ্যন্তরে বাণিজ্য বাড়লেই যে ভারত সমানভাবে লাভবান হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ভারত যদি বাজার খুলতে চায়, তবে চিনের পণ্যের প্রবেশও আরও সহজ হতে পারে। তাই ‘ব্রিকসের অর্থনৈতিক সহযোগিতা’ ভারতের কাছে সুযোগ, আবার একই সঙ্গে সতর্কতার বিষয়ও।

প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করতে পেরেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে ব্রিকসের যৌথ অবস্থানে গ্লোবাল সাউথের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার মডেলকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তুলে ধরার সুযোগও তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য, ডিজিটাল পরিকাঠামো, শিল্পোন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতের একাধিক প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে।

এখানে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, প্রযুক্তির প্রশ্নে শুধু চিন বা পশ্চিমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেকে একটি বিকল্প অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই ডিজিটাল পেমেন্ট, পরিচয়ব্যবস্থা এবং সরকারি ডিজিটাল পরিষেবার অভিজ্ঞতাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে চায়। ব্রিকস সেই কাজের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।

তবে এখানেও ভারত একা নয়। চিন ইতিমধ্যেই ব্রিকসের মধ্যে এআই, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং শিল্প সহযোগিতার নতুন উদ্যোগের কথা বলেছে। চিনের অর্থনৈতিক শক্তি এবং প্রযুক্তিগত ক্ষমতা ভারতের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রেই বেশি। ফলে ব্রিকসের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ কে নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে প্রকাশ্য না হলেও প্রতিযোগিতা থেকেই যাবে।

সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ভারত ব্রিকস সম্মেলন থেকে কিছুটা রাজনৈতিক সমর্থন পেয়েছে। যৌথ ঘোষণাপত্রে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ জানানো এবং বিভিন্ন হামলার নিন্দা করা হয়েছে। ফলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান আরও জোরালো হয়েছে। ভারত বরাবরই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সব দেশকে একসঙ্গে কঠোর পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়ে এসেছে।

তবে এখানেও ভারতের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সাধারণভাবে ব্রিকসের সমর্থন পাওয়া আর পাকিস্তানকে ঘিরে ভারতের নির্দিষ্ট অভিযোগগুলির পক্ষে সব সদস্য দেশের সমর্থন পাওয়া এক বিষয় নয়। ব্রিকসের প্রতিটি দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কও এক নয়। বিশেষ করে চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থানের সঙ্গে চিনের অবস্থান সব ক্ষেত্রে মেলে না। তাই ভারত এই সম্মেলন থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা পেলেও, নিজের সব কৌশলগত দাবি ব্রিকসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

ফলে দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনকে ভারতের নিঃশর্ত জয় বলা যাবে না। ভারত পেয়েছে একটি সফল সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে পরিচিতি। পেয়েছে কূটনৈতিক মধ্যস্থতার সুযোগ। পেয়েছে গ্লোবাল সাউথের প্রশ্নে নিজের বক্তব্য আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার মঞ্চ। পেয়েছে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, ডিজিটাল পেমেন্ট, এআই, স্বাস্থ্য, শিল্প এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন কিছু সম্ভাবনা।

কিন্তু ভারত পায়নি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ। পায়নি একক ব্রিকস মুদ্রা। পায়নি চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার কোনো সমাধান। ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে থাকা রাজনৈতিক মতভেদও দূর হয়নি।

এটিই ব্রিকসের বর্তমান অবস্থা। এই মঞ্চে সবাই একই বিষয়ে একমত নয়, কিন্তু তারা সবাই আলোচনা করতে চায়। কেউ পশ্চিমের প্রভাব কমাতে চায়, কেউ অর্থনৈতিক বিকল্প খুঁজছে, কেউ রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে চায়, কেউ আবার আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় নিজের জন্য আরও জায়গা চাইছে। ভারতও নিজের জায়গা তৈরি করতে চাইছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
15 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

পেরিয়ারের মৃত্যু নেই, যে লড়াই আজও চলছে

Periyar’s 148th Birth Anniversary: পেরিয়ারের ১৪৬তম জন্মদিনেও এক শতাব্দী আগে তিনি যে প্রশ্নগুলি তুলেছিলেন, সেগুলিই নতুন করে সামনে আনতে হচ্ছে। কেন বারবার জাতের পরিচয় হিংসার কারণ হয়ে ওঠে? কেন সংবিধান ও আইন থাকা সত্ত্বেও জাতিভেদ, সামাজিক ক্ষমতা এবং বৈষম্যের এই কাঠামো এখনও ভাঙা যায়নি?

গণতন্ত্রের আলো প্রতিফলিত হয় ব্যক্তির চরিত্রে, শিখিয়েছিলেন সুমিত সরকার

Historian Pradip Kumar Datta on Sumit Sarkar's historiographical legacy: ‘হিস্ট্রি ফ্রম বিলো’ থেকে আখ্যান বিশ্লেষণ, সাম্প্রদায়িকতার ইতিহাস থেকে হিন্দুত্বের উত্থান—সুমিত সরকারের চিন্তার নানা পর্বের সঙ্গে দীর্ঘ বৌদ্ধিক সম্পর্ক রয়েছে ইতিহাসবিদ প্রদীপ কুমার দত্তের। ‘কারভিং ব্লকস’ ও ‘হেটেরোজিনিয়েটিস’-এর সূত্র ধরে ইতিহাস, সাম্প্রদায়িকতা ও মিথ-হিস্ট্রির রাজনীতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় অত্রি ভট্টাচার্য।

রাজনীতির অভিধানে ‘পিতৃতন্ত্র’ ঢুকছে? রাহুলের বক্তৃতা কি নতুন কোনো শুরু?

Rahul Gandhi patriarchy: পুনের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর বক্তৃতা সম্পূর্ণ নতুন বয়ান তৈরি করল। এই প্রথম কোনো মূলধারার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সরাসরি “পিতৃতন্ত্র নিপাত যাক” এই স্লোগান তুললেন। লক্ষ্য করার মতো বিষয়, এই কথাগুলি তিনি বলেছিলেন সরাসরি তরুণী জেন জি শ্রোতাদের সামনে দাঁড়িয়ে।

এআইয়ের বাড়বাড়ন্তে বিপদে চিনের কমিউনিস্ট পার্টি?

AI Threat to China’s Communist Party: এআই শুধু প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বদলাবে, নাকি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও রাজনীতিতেও তৈরি করবে নতুন সংকট? কেন চিনের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্তা এআইকে কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছেন? বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এআই গেলে কী ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে? আর কেন শি জিনপিং এআইকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলছেন?

টোকিওর জিম্বোচো: বইয়ের শহরে পাঠকের খোঁজে

Tokyo book market: কফিহাউজ যেমন কলেজস্ট্রিটের প্রাণকেন্দ্র, তেমনই জিম্বোচোতে রয়েছে একাধিক কিস্‌সাতেন—শান্ত নিঝ্‌ঝুম কফির দোকান। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো কিস্‌সাতেনের নাম সাবোরু।

জার্মানিতে ফের যেভাবে বাড়ছে নাৎসি রাজনীতির ছায়া

AfD Rise in Germany: জার্মানিতেই এখন আবার এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে, যার বক্তব্যে অভিবাসীবিরোধিতা, জাতিগত জাতীয়তাবাদ, ইসলামবিদ্বেষ এবং ‘জার্মান পরিচয়’ রক্ষার নামে বহিষ্কারের রাজনীতি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। দলটির নাম অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি।

পেপার চাই, মান পরে: শিকারি জার্নালের বাজার তৈরি করে কে?

Predatory Journals: ইউজিসি-র ২০১৬ সালের বিধিতে থিসিস জমা দেওয়ার আগে অন্তত একটি রেফার্ড জার্নালে পেপার প্রকাশ বাধ্যতামূলক ছিল। ২০২২ সালে নতুন পিএইচডি বিধি এনে আগের নিয়ম খারিজ করা হয় এবং থিসিস জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশ জুড়ে পেপার প্রকাশের সেই বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবু নিয়ম বদলালেই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ‘প্রকাশ করো, নইলে মরো’ (publish or perish) সংস্কৃতি রাতারাতি বদলে যায়?

গাজার মানুষ থাকবে গাজাতেই, স্বাধীন প্যালেস্টাইনের পক্ষে দিল্লি ঘোষণাপত্র

BRICS Delhi Declaration: দিল্লিতে শেষ হওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন জানানো হয়েছে। সেই রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ১৯৬৭ সালের সীমারেখা। গাজা ও পশ্চিম তীরকে সেই ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ধরে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করার কথাও বলা হয়েছে।