সুপারমার্কেটের শাকে নয়, বুনোশাকেই রয়েছে বেশি পুষ্টিগুণ

Wild leafy greens: Scientific Reports (2024)-এর গবেষণা বলছে, বাণিজ্যিক উপায়ে চাষ করা সাধারণ সবজির চেয়ে এই বুনো শাকগুলিতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ ও সি এবং ফাইবার অনেক বেশি থাকে। এমনকী কর্ণাটকের সোলিগা উপজাতির মহিলারা গর্ভবতী মায়েদের রক্তশূন্যতা দূর করতে বিশেষ কিছু বুনো শাক ব্যবহার করে আসছেন যুগের পর যুগ।

inscript
৪ মিনিট
সুপারমার্কেটের শাকে নয়, বুনোশাকেই রয়েছে বেশি পুষ্টিগুণ

বর্ষার প্রথম একটানা বৃষ্টিটা নামলেই বাংলার প্রকৃতি এক সবুজ রূপ নেয়। আমরা যখন সুপারমার্কেটের র‍্যাক থেকে ব্রকলি, কেল বা কেমিক্যালে ধোয়া লেটুস কিনে নিজেদের অত্যন্ত স্বাস্থ্য সচেতন ভাবি, ঠিক তখনই আমাদের গ্রাম-বাংলার পুকুরপাড়, খালের ধার কিংবা ধানখেতের আলে গজিয়ে ওঠে আমাদের 'সুপারফুড'।

বর্ষায় সুপারমার্কেটের গ্রিন লিভসের চেয়ে মাঠের শাকে বেশি পুষ্টিগুণ থাকে

বর্ষার জল পেলেই বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয়ে যায় শাক কুড়ানোর দিন। সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে পুকুরপাড় থেকে কুড়িয়ে আনা থানকুনি, অগভীর জলে ছড়িয়ে পড়া কলমি কিংবা ভিজে ঘাসজমিতে গজিয়ে ওঠা হেলেঞ্চা রান্নাঘরে পৌঁছে যায় অনায়াসে। এদের কোনো কৃত্রিম সার লাগে না, বিশেষ যত্ন বা পরিচর্যারও দরকার হয় না। সামান্য সরষের তেল, একটু রসুন আর কাঁচালঙ্কা দিয়ে হালকা সাঁতলানো এই শাকগুলি কেবল মুখের স্বাদই ফেরায় না, বর্ষার স্যাঁতসেঁতে দিনে পেট ঠান্ডা রাখতে আর শরীর চাঙ্গা রাখতে এদের জুড়ি মেলা ভার। সঙ্গে সুশনি, হিঞ্চে, নোটে শাক কিংবা নদীর ধারের বুনো কচুপাতা তো আছেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জন্ডিসে সেদ্ধ খাবারই কি একমাত্র ভরসা? বিশ্বাস ভাঙলেন লিভার বিশেষজ্ঞ

Jaundice Diet: ডা. ফিলিপসের কথায়, "জন্ডিস বা হেপাটাইটিসের চিকিৎসা মানেই শুধু সেদ্ধ খাবার, সবজি খেয়ে থাকা বা তেল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং ভালো করে খেতে হবে। কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি—সবই প্রয়োজন। শরীর যত ভালো পুষ্টি পাবে, তত দ্রুত সুস্থ হবে।"

এই বুনো শাকগুলির সৌন্দর্য স্রেফ বাংলাতেই নেই। আমাদের কলমি বা হেলেঞ্চার মতোই সারা ভারত জুড়ে ছড়িয়ে আছে এমনই সব অসাধারণ মরসুমি শাক। অঞ্চলভেদে মানুষ এদের চেনে নানা নামে—কোথাও ‘সাগ’, কোথাও ‘সোপ্পু’, ‘কিলই’ কিংবা ‘ভাজি’।

তবে চাষ করা পালং বা বাঁধাকপির মতো এরা সারা বছর বাজারে মেলে না। বৈশাখের প্রচণ্ড দাবদাহে যখন মাঠ-ঘাট ফেটে চৌচির হয়ে যায়, তখনো এদের বীজ মাটির নিচে থাকে। তারপর বর্ষায় যখন মাটি নরম হয় আর বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ে, তখন এরা গজিয়ে ওঠে। নদী-নালা, বনের স্যাঁতসেঁতে কোণ আর পলিমাটির পুষ্টিকে কাজে লাগিয়ে মাত্র ছয় থেকে দশ সপ্তাহের মধ্যে এরা নিজেদের পুরো জীবনচক্র শেষ করে ফেলে।

বাংলার মতোই ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলিতেও বর্ষার এই বুনোশাক আসে আলাদা আলাদা রূপে। ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ বা কোরাপুট অঞ্চলের পাহাড়ি গ্রামে বর্ষার সকালে বাঁশের ঝুড়ি হাতে নারীরা বনে বের হন। তারা খুব সাবধানে গাছের শুধু কচি পাতাটুকু কেটে নেন, যাতে গাছটি আবার স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে। কোশলা, কলম, বন পালং কিংবা ফুটকালের মতো বহু ধরনের সাগ তারা সংগ্রহ করেন। ডাল, সরষে বা শুঁটকি মাছ দিয়ে রেঁধে ফেলা এই শাকগুলি একসময় অভাবের দিনে গ্রামের মানুষের শরীরে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের জোগান দিত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গাছের ছালেই কমবে বাতের ব্যথা!

Rheumatoid Arthritis Treatment: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব না হলেও চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। DMARDs, বায়োলজিক ওষুধ, JAK inhibitor, স্টেরয়েড এবং ব্যথানাশক ওষুধের সাহায্যে অধিকাংশ রোগীর প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বুনোশাকগুলিই শরীরে আয়রন, ম্যালশিয়ামের জোগান দেয়

আবার মহারাষ্ট্রের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার গ্রামগুলিতে ভারী বৃষ্টির পরপরই রাস্তার ধারে বা চারণভূমিতে গজিয়ে ওঠে তাকলা ভাজি। কিছুটা তেতো স্বাদের এই পাতা প্রথমে সেদ্ধ করে কষ ফেলে দেওয়া হয়, তারপর ভাজা বাদাম, নারকেল আর বেসন দিয়ে তৈরি হয় লোভনীয় সব পদ।

অন্যদিকে কর্ণাটকে বর্ষা নামা মানেই বাজারে সোপ্পু-র মেলা। বাজরার খেতের পাশ থেকে তোলা অগসে সোপ্পু বা দান্তু সোপ্পুর মতো নানা শাক ডাল দিয়ে ঘন করে রেঁধে বানানো হয় ঐতিহ্যবাহী সোপ্পু সারু।

দক্ষিণের কেরলে নারকেল বাগান আর বাড়ির উঠোনে বৃষ্টির ছোঁয়ায় গজিয়ে ওঠে চেরা, মুথিল বা কোডিথুভার মতো ভেষজ। বিশেষ করে শ্রাবণ মাসে সেখানে প্রায় দশ ধরনের বুনো পাতা একসঙ্গে নারকেল দিয়ে রান্না করে ‘পাথিল থোরান’ বানানো হয়, যা বর্ষায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আর উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম বা মেঘালয়ে পাহাড়ি ঝরনার ধার থেকে সংগৃহীত কচি ঢেঁকি শাক কিংবা বাঁশ করুল দিয়ে তৈরি পদ তাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

Scientific Reports (2024)-এর গবেষণা বলছে, বাণিজ্যিক উপায়ে চাষ করা সাধারণ সবজির চেয়ে এই বুনো শাকগুলিতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ ও সি এবং ফাইবার অনেক বেশি থাকে। এমনকী কর্ণাটকের সোলিগা উপজাতির মহিলারা গর্ভবতী মায়েদের রক্তশূন্যতা দূর করতে বিশেষ কিছু বুনো শাক ব্যবহার করে আসছেন যুগের পর যুগ। International Journal of Pharmacognosy and Phytochemical Research (2014) জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, সোলিগাদের ব্যবহৃত বুনো শাকের পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং ক্ষত নিরাময়কারী গুণ রয়েছে। যেহেতু এরা প্রকৃতির নিজের নিয়মে বাড়ে, তাই এতে কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক সারের বিষ থাকে না। পরিবেশের উপর কোনো আঁচ না ফেলেই এরা আমাদের পাতে জোগায় সেরা পুষ্টি।

একসময় যেসব শাককে "গরিবের খাবার" বলে এড়িয়ে যাওয়া হতো, আজ বিশ্বজুড়ে পুষ্টিবিদরা সেগুলির আসল কদর বুঝতে পারছেন। কিন্তু আফসোসের কথা হলো, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, জলাভূমি ভরাট আর জঙ্গল কেটে ফেলার কারণে পরিবেশ থেকে এই অমূল্য উপাদানগুলি দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে হারাচ্ছে ঐতিহ্যগত জ্ঞানও। যেখানে বয়স্ক মানুষেরা অনায়াসে চল্লিশ-পঞ্চাশ ধরনের ভোজ্য শাক চিনে নিতে পারেন, সেখানে নতুন প্রজন্ম হয়তো দশ-বারোটির বেশি চেনেই না। কোনটা খাওয়ার উপযোগী আর কোনটা নয়—এই সহজ পরিবেশবান্ধব বিদ্যাটুকু বাঁচিয়ে রাখাটা এখন বড্ড জরুরি। তবে, বেঙ্গালুরু, মুম্বই বা কলকাতার মতো ব্যস্ত শহরেও এখন ‘ফরেজিং ওয়াক’ বা বুনো শাক চেনার সচেতনতা অভিযান শুরু হয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।