কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা
sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।
সন্দীপ ও সুজাত সহকর্মী। তাঁরা একইসঙ্গে থাকেন। একসঙ্গে অফিসে আসে, একসঙ্গেই বাড়ি ফেরেন। দুজনই রাত জেগে কাজ করেন, দু'জনেরই ঘুম হয় মাত্র পাঁচ-ছয় ঘণ্টা। কয়েক বছর পর তাঁদের ফের দেখা হলো। সন্দীপ জানালেন, তাঁর স্মৃতিশক্তি আর আগের মতো নেই, মনোযোগও কমে গিয়েছে। অথচ সুজাতর তেমন কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কেন এমন হয়? এতদিন এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর ছিল না। এবার তার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা।
অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটি (Edith Cowan University বা ECU)-র গবেষকদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, শুধু কম ঘুম নয়, তার সঙ্গে একজন মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যও নির্ধারণ করতে পারে মস্তিষ্ক ঠিক কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অর্থাৎ, একই রকম জীবনযাপন করলেও সবার মস্তিষ্ক একভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না।
গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Jaundice Diet: ডা. ফিলিপসের কথায়, "জন্ডিস বা হেপাটাইটিসের চিকিৎসা মানেই শুধু সেদ্ধ খাবার, সবজি খেয়ে থাকা বা তেল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং ভালো করে খেতে হবে। কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি—সবই প্রয়োজন। শরীর যত ভালো পুষ্টি পাবে, তত দ্রুত সুস্থ হবে।"
ECU-র সেন্টার ফর প্রিসিশন হেলথ-এর গবেষকরা ১৩ ধরনের সাধারণ AQP4 জিন ভ্যারিয়েন্ট, অংশগ্রহণকারীদের ঘুমের অভ্যাস, ব্রেন স্ক্যান এবং স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তির বিভিন্ন পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করেন।
সেখানে দেখা যায়, যাঁদের শরীরে AQP4 জিনের নির্দিষ্ট কিছু ধরন রয়েছে, তাঁদের ঘুম কম হলে মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার তুলনামূলক দ্রুত কমে যেতে পারে। এই গ্রে ম্যাটারই স্মৃতিশক্তি, শেখার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত নেওয়া, চিন্তাভাবনা এবং শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঘুম আসতে বেশি সময় লাগলেও মস্তিষ্কের গঠনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। অর্থাৎ, শুধু কত ঘণ্টা ঘুমোলেন তা নয়, ঘুমের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণার অন্যতম গবেষক ড. আয়েশা মিলিগান আর্মস্ট্রং জানান, শুধু কোন জিন রয়েছে, সেটাই সব নয়। সেই জিন পরিবেশের সঙ্গে কীভাবে কাজ করছে, সেটাই আসল বিষয়। একই জিন একজনের জন্য নিরাপদ হতে পারে, আবার পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে অন্য একজনের ক্ষেত্রে সেটিই ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে তাঁর মতে, আশার কথা হল—ঘুম এমন একটি বিষয়, যা মানুষ চাইলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Steps Per Day for Weight Loss: গবেষকদের মতে, ১ কেজি শরীরের চর্বি কমাতে প্রায় ৭,৭০০ ক্যালোরির ঘাটতি তৈরি করতে হয়। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহে ১ কেজি ওজন কমাতে হলে প্রতিদিন প্রায় ১,১০০ ক্যালোরি অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। শুধু হাঁটার মাধ্যমে এত বড়মাত্রার ক্যালোরি ঘাটতি তৈরি করা বেশ কঠিন।
অন্য গবেষক ড. টেনিয়েল পোর্টার বলেন, খারাপ ঘুম ও আলঝাইমার্সের ঝুঁকির সম্পর্ক আগেই জানা ছিল। কিন্তু এই গবেষণা দেখাল, সবার ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকির পথ এক নয়। তাই ভবিষ্যতে আলঝাইমার্স প্রতিরোধে ব্যক্তির জিনগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদা পরিকল্পনা করা সম্ভব হতে পারে। যদিও এখনই জিন পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন না গবেষকরা। আরও বড় পরিসরে গবেষণা হওয়া জরুরি বলেই তাঁদের মত।
বিজ্ঞানীদের আশা, ভবিষ্যতে এমন চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি হবে, যেখানে একজন মানুষের জিন এবং ঘুমের অভ্যাস বিবেচনা করেই আলঝাইমার্সের ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা করা যাবে। অর্থাৎ, সুস্থ মস্তিষ্কের লড়াইয়ে হয়তো ওষুধের পাশাপাশি ভালো ঘুমই হয়ে উঠবে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
সূত্র
Edith Cowan University (ECU); গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Alzheimer's & Dementia (Journal of the Alzheimer's Association)-এ।






