এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ায় চালের দাম প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, বাড়ছে খাদ্য মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা
Rice Price Increase: এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ায় চালের দাম কেন দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হলো? ভারত ও থাইল্যান্ডে উৎপাদন কমায় কি বিশ্বব্যাপী সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে? ফিলিপাইনে চালের দাম ২১ শতাংশ বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনে কী প্রভাব পড়ছে? খাদ্য মূল্যস্ফীতি কি আরও বাড়বে? ২০২৭ সাল পর্যন্ত দাম কি এভাবেই চড়া থাকবে?
এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ার চালের দাম প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এল নিনো আবহাওয়ার প্রভাবে চালের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি চাল এই অঞ্চলে উৎপাদিত হয়। তাই এখানকার চাল উৎপাদন কমলে সারা বিশ্বে চালের সরবরাহ কমে যায় এবং দাম বেড়ে যায়। মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানিয়েছে, এক দশকেরও বেশি সময় পর এই মৌসুমে বিশ্বব্যাপী চালের উৎপাদন কমবে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ২০২৬-২৭ মৌসুমে উৎপাদন কমার পূর্বাভাস দিয়েছে।
এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলের কৃষকরা এখন ফসল কাটার মাঝামাঝি পর্যায়ে আছেন। বিশ্বের শীর্ষ চাল রপ্তানিকারক দেশ ভারতসহ অন্যান্য উৎপাদক দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে শুষ্ক আবহাওয়া হওয়ায় ফসলের ফলন কমেছে যার ফলে চালের দাম বাড়ছে।
ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল রপ্তানিকারক দেশ। সেখানে মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়ায় ফসলের ফলন কমেছে। থাইল্যান্ডেও শুষ্ক আবহাওয়া সমস্যা তৈরি করেছে। বিশেষ করে অফ-সিজন ফসল, যা সেচের ওপর নির্ভর করে, সেখানে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ইউএসডিএ-র ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলেছে, থাইল্যান্ডে উৎপাদনের প্রধান ঝুঁকি হলো অফ-সিজন ফসল। এই ফসল সেচের ওপর নির্ভরশীল। সেচের জল কম থাকলে উৎপাদন কমে যেতে পারে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
US-India trade war: চালের উপর শুল্ক বাড়ানোর মার্কিন হুমকি আসলে কূটনৈতিক দর কষাকষির নতুন হাতিয়ার। যাতে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) সয়াবিন ও ভুট্টা আমদানির অনুমতি দেয়।
থাই রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত থাইল্যান্ড থেকে আসা ৫ শতাংশ ভাঙা সাদা চালের দাম টন প্রতি ৪৯৯ ডলারে পৌঁছেছে। এটি ডিসেম্বর ২০২৪-এর পর সর্বোচ্চ দাম। শিকাগোতে অপরিশোধিত চালের ফিউচার মূল্যও বছরের শুরু থেকে ৮০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে ভুট্টা ও গমের মতো অন্যান্য শস্যের দাম কমলেও চালের দাম বাড়ছে। যার ফলে চালের বাজার অন্যান্য শস্যের বাজারের থেকে বেশি চাপের মুখে পড়েছে।
পাইকারি বাজারে দাম বাড়লেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পৌঁছাতে সময় লাগে। তবে কিছু দেশে ইতিমধ্যেই খুচরা দাম বেড়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল আমদানিকারক দেশ ফিলিপাইনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অক্টোবরে চালের দাম ২১ শতাংশ বেড়েছে। সেখানকার সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোতে চাল প্রধান খাদ্য। তাই দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ অনেক বেড়ে যায় এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ে।
এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন চাল খান। তাই চালের দাম বাড়া মানে খাদ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি চাপ বাড়া। অনেক দেশে সরকার ইতিমধ্যেই মজুদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবছে। তবে বড় মজুদ থাকলেও উৎপাদন কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এল নিনোর প্রভাবে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামসহ প্রধান উৎপাদক দেশগুলোতে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে সেচনির্ভর অফ-সিজন ফসলে সমস্যা বেশি। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ কমে যাচ্ছে এবং চালের দাম বাড়ছে। অনেক দেশে ইতিমধ্যেই খুচরা বাজারে চালের দাম বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বর্তমানে কৃষকরা শুষ্ক আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করছেন। অনেক জায়গায় ফসলের গুণগত মানও কমে যাচ্ছে। এর ফলে রপ্তানিযোগ্য চালের পরিমাণ কমছে। অন্যদিকে আমদানিকারক দেশগুলোতে চাহিদা কমছে না। এতে বাজারে চাপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো যদি আরও শক্তিশালী হয় এবং ২০২৭ সালের প্রথম দিকে পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তাহলে চালের দাম আরও বাড়তে পারে। কিছু গবেষণা সংস্থা বলছে, ২০২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক পর্যন্ত দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। তবে ভারত ও থাইল্যান্ডে যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয় বা সেচ ব্যবস্থা ভালো থাকে, তাহলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে পারে।






