সকালে জমা বিকেলে খরচ: আইনের শাসনের অবমাননা
Gaighata incident: গাইঘাটার ঘটনার পরমুহূর্তে শাসক দলের মন্ত্রী, নেতাদের প্রতিক্রিয়া পরিষ্কার করে দেয়, বন্দি অভিযুক্তকে হত্যার ঘটনা সরকারি নীতির ('সকালে জমা, বিকালে খরচ')—নগ্ন প্রয়োগ।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দর্শনের অন্যতম বিশেষজ্ঞ নাইজেল এস রিডলি তাঁর 'দ্য ট্রিটমেন্ট অফ প্রিজনারস আন্ডার ইন্টারন্যাশানাল ল' শীর্ষক ধ্রুপদী গ্রন্থে (১৯৯৯) লিখেছিলেন, যখন ধারাবাহিকভাবে আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটে, তখন সেই অপরাধকে গণ্য করা হয়, তাঁর ভাষায়,
'international crime rather than [just] an international delict'
ভারতের ক্ষেত্রে সমভাবে এই কথা প্রযোজ্য। এমনকি দেশীয় আইনেও এই ধরনের আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোনো অনুমোদন নেই; বরং আইনের চোখে তা অপরাধ। বারুইপুর এবং একই দিনে গাইঘাটা, সামশেরগঞ্জে যে অভিযুক্ত বন্দি হত্যার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো সর্ব অর্থে পরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথায় খুন। মানবাধিকারের পরিভাষায়, ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা।
ইতিহাসের দিকে ফেরা
বিশ্বের নানা দেশের আইনরক্ষক সংস্থা ও সরকারের প্রত্যক্ষ মদতের সৌজন্যে আমরা প্রত্যক্ষ করে আসছি, রাষ্ট্র নানা ধরনের নৃশংস হাতিয়ার ব্যবহার করে। তার মধ্যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের দুটো যমজ হাতিয়ার: বলপূর্বক নিখোঁজ (বা অপহরণ ও গুম খুন; এই ক্ষেত্রে দেহ পাওয়া যায় না; পুলিশের খাতায় মিসিং!) এবং ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা। গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে লাতিন আমেরিকার নানা দেশে (চিলি, গুয়াতেমালা, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল), ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এই দুই 'পদ্ধতি'সহ নানা ধরনের হাতিয়ার (যেমন গণহত্যা, গণসমাধি, হেফাজতে হত্যা, পালাতে যাচ্ছিল তখন হত্যা ইত্যাদি) রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের নীতি ও কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। আশির দশকেই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রাগুক্ত দুটো হাতিয়ার সম্পর্কে মানবাধিকার দর্শনের দৃষ্টিতে ব্যাখ্যামূলক বই প্রকাশ করতে বাধ্য হয়। রাষ্ট্রসংঘও একের পর এক নানা সনদ, ঘোষণা বা প্রস্তাব নিতে শুরু করে এই নতুন বহুমাত্রিক রাষ্ট্রীয় আক্রমণের তীব্র বিরোধিতা করে। ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক স্তরে ভুয়ো/সাজানো সংঘর্ষের বিরুদ্ধে শক্তপোক্ত আইনি কাঠামো গড়ে উঠেছে। ভারত একাধিক ঘোষণা, সনদে স্বাক্ষর করেছে, প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। কিন্তু ওই পর্যন্ত। নিজ দেশে আইনের শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, সংবিধান তথা সর্বোচ্চ আদালতের, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নানা নির্দেশিকা জলাঞ্জলি দিয়ে এই মানবতাবিরোধী হত্যালীলা চালিয়ে যাচ্ছে; জনসমর্থন আছে বলে দাবি করছে, 'জনতার শাসন' বলে বিকৃত উল্লাস করছে।
আপাতগ্রাহ্যভাবে, আভিধানিক অর্থে 'এনকাউন্টার' শব্দটি একটি নিরীহ শব্দ: কারও সঙ্গে কারও মোলাকাত, প্রথম সাক্ষাৎকার। কিন্তু মূলত রাজনৈতিক আন্দোলনকে দমন করার লক্ষ্যে, রাজনৈতিক কর্মীদের চিরতরে 'চুপ করিয়ে' দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের দমনের নব নব কৌশলের পন্থা হিসেবে যখন শব্দটি ব্যবহৃত হতে শুরু করল, তখন সেটা 'হাড়হিম করা' আতঙ্কের শব্দ হিসেবে মানবাধিকার তথা সামাজিক সংস্কৃতিতে স্থান পেল। পন্থাগুলোর প্রয়োগের ভৌগোলিক সীমানা শুধু পশ্চিমবঙ্গ, কেরলে সীমাবদ্ধ রইল না। পঞ্জাব, জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিস্তীর্ণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এর নগ্ন প্রয়োগের রক্তাক্ত ইতিহাস আমরা জানি। তেমনই জানি, গণপিটুনিতে হত্যা করার মতোই উত্তরপ্রদেশে ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যাকে জলভাত করে দেওয়া হয়েছে। এবং সেটাই নাকি দুষ্কৃতী দমনের মডেল! আর এই দর্শনকে যোগ্য সঙ্গত করে চলেছে গণমাধ্যমের একাংশ। পাঞ্জাবে কেপিএস গিল-সহ অন্যান্যদের, মহারাষ্ট্রে, উত্তরপ্রদেশে পুলিশ আধিকারিকদের 'মূল স্রোতের' মিডিয়া বিশেষ বিশেষণে বন্দিত করেছে 'এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট' বলে। গত পাঁচ মাসে পশ্চিমবঙ্গ এই তালিকায় নতুন করে নিজেদের নাম লেখাল।
সাম্প্রতিক ঘটনা
বারুইপুর, গাইঘাটা এবং সামশেরগঞ্জের ঘটনা সংবাদপত্রে বহুল প্রচারিত ও এখনও বহুল চর্চিত। তাই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যায় যাচ্ছি না। বারুইপুর, গাইঘাটার ঘটনায় মিল আছে: কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যা। তিনটি ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত বন্দির পরিণতি একই: সাজানো গল্পে পুলিশের গুলিতে নিহত। তবে সামশেরগঞ্জের ঘটনা অন্য আরেকটি অর্থে চক্ষু উন্মোচনকারী একটি ঘটনা। জেল হেফাজত থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্ত সামাউনকে পুলিশ হত্যা করে। এদিকে কিন্তু আজ পর্যন্ত নিহত সুজিত মণ্ডলের দেহই পাওয়া যায়নি। তবু পুনর্নির্মাণের নামে জেল থেকে বার করে এনে একটি বাড়ির দোতলায় ফাঁকা ঘরে নিয়ে যায়। তারপর...
গাইঘাটার ঘটনার পরমুহূর্তে শাসক দলের মন্ত্রী, নেতাদের প্রতিক্রিয়া পরিষ্কার করে দেয়, বন্দি অভিযুক্তকে হত্যার ঘটনা সরকারি নীতির ('সকালে জমা, বিকালে খরচ')—নগ্ন প্রয়োগ। এক মন্ত্রী বললেন, ন্যায় দেওয়ার জন্য পুলিশকে কিছু কঠোর ও অপ্রিয় পদক্ষেপ নিতে হয়। বিজেপির রাজ্য সভাপতি বললেন, জনতার শাসন। এক মুখপাত্র বললেন, পুলিশ সত্যিকারের অতি সক্রিয় হয়েছে। অর্থাৎ তেনারাই পুলিশের গল্পকে—বন্দির বন্দুক ছিনিয়ে গুলি করা ও তার থেকে নিজেদের জীবন বাঁচাতে পুলিশের আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালিয়ে অভিযুক্তকে হত্যা—সম্পূর্ণ ভুয়ো বলছেন; এগুলোকে 'অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ' বলতে নারাজ।
বস্তুত, গাইঘাটার অভিযুক্ত বন্দি (পুলিশের বয়ানে পিসি অ্যাকিউজড) হত্যার ঘটনা সম্পর্কিত পুলিশের এফআইআরটি পড়লেই বোঝা যায় পুলিশের গল্পটিও কত কাঁচা ও নিম্নমানের: ঘটনার পুনর্নির্মাণ থেকে ভোর রাতে ফেরার পথে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য বন্দির আবেদন মেনে পুলিশ হাতকড়ার একটি দিক খুলে দেয় ও বন্দি তৎক্ষণাৎ একজন পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিতে যায়, ধাক্কাধাক্কিতে বন্দি পড়ে যায়, পড়ে গিয়েও (যেন জেমস বন্ড কায়দায়) গুলি চালায়, তখন আত্মরক্ষার্থে পুলিশ চার রাউন্ড গুলি চালায় বন্দিকে লক্ষ্য করে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
West Bengal police encounter: বারুইপুর, গাইঘাটা থেকে সামশেরগঞ্জ—প্রতিটি ঘটনাতেই অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা এবং পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর একই কাহিনি। এই ঘটনাগুলি নিছক আত্মরক্ষা, নাকি বিচার এড়ানোর কোনো ছক? আদালতের বদলে পুলিশের গুলিতেই শেষ হবে ন্যায়বিচারের পথ?
পুনর্নির্মাণের সময়কাল লক্ষণীয়। যে বন্দিদের হত্যা করা হবে না, কিন্তু জনসমক্ষে চূড়ান্ত হেনস্থা, অবমাননাকর আচরণ করা হবে বলে পুলিশ স্থির করেছে (মিডিয়াকে জানিয়ে), তাদের দিনের বেলায় কখনও বা খালি গায়ে, হাফ প্যান্ট/বারমুডা পরিয়ে, কোমরে দড়ি বেঁধে, কখনওবা খালি পায়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটায়। আর যাদের 'খরচ' করে দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রবাদী ও আইনরক্ষকরা, তাদের জন্য পুনর্নির্মাণের সময় বরাদ্দ করা হয় নিশুতি রাত। মূর্খ ভারতবাসীকে উর্দীপরিহিত খুনি রাষ্ট্রবাদীরা বোঝান যে, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সত্য দিনের আলোর মতো সবচেয়ে পরিস্ফুট হয় ঘুটঘুটে অন্ধকারেই তো।
পুনর্নির্মাণের জন্য ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত বন্দিকে নিয়ে যাওয়াটা আদৌ জরুরি কি না এবং তা ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২০(৩) বিরোধী কি না—এই নিয়ে একটা আইনি তর্ক উঠেছিল এই বছরেই। মাদ্রাজ হাইকোর্টের অভিমত ছিল, যেহেতু অভিযুক্ত বন্দি সংবিধানের ২০(৩) মোতাবেক নীরব থাকার অধিকারী, সেহেতু তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কথা বলানোর পুলিশের চেষ্টা সংবিধানবিরোধী। দুই, পুনর্নির্মাণের বিষয়টাই ফৌজদারি মামলায় তথ্যপ্রমাণ হিসেবে একটি অতি অ-গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; মূলত ঘটনাস্থলের কিছু ক্লুকে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের জন্য পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন হয়। সুপ্রিম কোর্ট এই মতকে সম্পূর্ণ গ্রহণ করলেন না, এবং অভিযুক্ত বন্দিকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েও সতর্কবার্তা দিলেন যে, এই জাতীয় পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কিন্তু অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। অনুমতির ছোট্ট ফোঁকর পাওয়াটাকে ব্যবহার করে ঘটনাস্থানকে রাষ্ট্রবাদীরা বন্দি হত্যার লীলাভূমি বানিয়ে নিল। তথ্য সংগ্রহের নামে প্রধান প্রত্যক্ষ শরীরী প্রমাণটিকেই লোপাট করে দিল।
পুলিশ ন্যায়বিচার দেয় বুঝি?
মানব সভ্যতার সর্বজনীন স্বীকৃত বৈশিষ্ট্য, অন্যায় কর্মের বিচার করার একমাত্র ক্ষমতা ন্যায়বিচার কাঠামোর, যা হবে প্রশাসনপ্রভাবমুক্ত, সম্পূর্ণ স্বাধীন, সুষ্ঠু একটি শক্তপোক্ত ব্যবস্থা। ভারত তার ব্যতিক্রম নয়—মাত্র পাঁচ মাস আগে সংবিধান মেনে চলার শপথকারীদের অন্তত এটুকু মনে রাখার কথা। এক কথায়, পুলিশের (বা বিকল্প পরিভাষায় আইনরক্ষকমাত্রের) ন্যায়বিচার দেওয়ার কোনো আইনি ক্ষমতাই নেই। উর্দিপরা আইনরক্ষাকারীদের একটাই কাজ: ফৌজদারি অন্যায় কর্মের যথাযথ সক্রিয়, নিরপেক্ষ তদন্ত করা, তথ্য সংগ্রহ করে আদালতে পেশ করা, যাতে আদালত একদিকে এই সমস্ত তথ্যপ্রমাণ যাচাই ও অন্যদিকে অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি ইত্যাদি তুল্যমূল্য বিচার করে দণ্ড প্রদান বা বেকসুর ঘোষণা করা। তারপরেও অ্যাপিল স্তর আছে। এই আইনি স্থাপত্য নাকচ করে পুলিশের একের মধ্যে তিনের ভূমিকাকে; অর্থাৎ একইসঙ্গে অভিযোগকারী, বিচারক ও শাস্তিদাতা—কোনো সভ্য সমাজের ভিত্তি হতে পারে না; আইনি স্থাপত্যে এর কোনো স্বীকৃতিই নেই।
প্রত্যয় নিয়ে বলা যেতে পারে, বিচার ব্যবস্থা, আইনের শাসনকে যারা ধ্বংস করে দিতে চায়, যারা বন্দিকে আইনবহির্ভূত চরম হেনস্থা করে, প্রশাসনিক খুন করে ও ক্ষমতায় অধিস্থিত যারা তাতে উৎসাহ যোগায়, বাহবা দেয় তারা ন্যায়বিচার, সংবিধান ও মানবাধিকারবিরোধী শক্তি; তারা এদেশকে banana republic স্তরে নামিয়ে আনার কুৎসিত খেলায় মেতেছে। সমাজকে বর্বরতার পাঁকে ডুবিয়ে দিতে চায়। যারা জনতার শাসন বলে উল্লাস করছেন, থাম্বস আপ দেখাচ্ছেন, তারা কি তাহলে বলতে চাইছেন, পুলিশ স্বয়ং যখন ধর্ষণে, খুনে অভিযুক্ত হবে, তখন তাকে জনতার শাসনের বলি করার অধিকার জনতার থাকবে? রাজনৈতিক তথা রাষ্ট্রনায়কদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে, একই পদ্ধতি তাহলে অনুসৃত হবে?
কিন্তু তথ্য বলছে, রাষ্ট্রবাদীদের তথাকথিত 'জিরো টলারেন্স'-এর হুংকার অত্যন্ত নির্বাচিত ও চূড়ান্ত দ্বিচারীতার প্রকট নিদর্শন। এদের নিজেদের লোকের বেলায় 'আদালতে অভিযোগ যতক্ষণ না প্রমাণিত হচ্ছে ততক্ষণ নির্দোষ' নীতির আড়ালে আশ্রয় নেয়, ভিন্ন সম্প্রদায়ের বা দলিত, উপজাতি নারী ধর্ষককে মালা পড়ায়, নারী খুনের ভিআইপি অভিযুক্তকে রাজ্যপাল বানায়।
প্রয়োজন চিরতরে ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যার বিলোপ
প্রায় ৫০ বছর আগে সখেদে জে বি কৃপালিনী বলেছিলেন, গত তিরিশ বছরে আমরা পুলিশ বাহিনীকে আইন মেনে চলার শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করতে পারিনি । আজও পারেনি। উলটে, আইনি বাধ্যবাধকতাকে নস্যাৎ করে সমস্ত আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধকে অবজ্ঞা করে, দেশের সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকাকে অঙ্গুলি প্রদর্শন করে প্রশাসনিক খতম বা আইনবহির্ভূত খুন করার নীতিকে ঘোষণা করছে, আইনরক্ষকদের সব ধরনের আইন ভাঙার কাজ উৎসাহিত করছে 'ফ্রি হ্যান্ড' দেওয়ার উন্মত্ত ঘোষণার মাধ্যমে।
দেশের, বিদেশের মানবাধিকার আন্দোলন, রাষ্ট্রসংঘের একের পর এক ঘোষণা, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা, বলপূর্বক নিখোঁজ ইত্যাদি রাষ্ট্রীয় পন্থার বিরুদ্ধে রায়ের পর রায়, বিখ্যাত ষোলো দফা গাইডলাইনস, মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত ঘোষণা, ভিকটিমকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পুরাতন কিন্তু আজও চালু নিয়মাবলী প্রভৃতি [স্বল্প পরিসরের কারণে এই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য উল্লেখ করা হলো না] একটাই নীতিগত অবস্থানকে তুলে ধরেছে:
'The 'encounter' philosophy is a criminal philosophy, and all policemen must know this.'
এমনকি সুপ্রিম কোর্ট একই পংক্তিতে বলছেন,
'...if a police man is given an illegal order by any superior to do a fake 'encounter', it is his duty to refuse to carry out such illegal order...'।
সুপ্রিম কোর্ট এও বলে দিয়েছেন যে, মৌলিক অধিকার যদি সরকার/রাষ্ট্র লঙ্ঘন করে তাহলে রাষ্ট্র 'সার্বভৌম অব্যাহতি' ('sovereign immunity') তত্ত্বের সুযোগ পাবে না। অর্থাৎ, জীবনের অধিকার 'inherent', অলঙ্ঘনীয় অধিকার। নির্দিষ্ট পদ্ধতি ছাড়া কারও জীবন কাড়া যায় না (অনুচ্ছেদ ২১)। সুপ্রিম কোর্ট তাই রাষ্ট্রের আইনসম্মত কাজের সঙ্গে সংবিধানবিরোধী কাজের তফাত করে দিয়েছেন বারবার।
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার আদর্শ ও আন্দোলন মনে করে, ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা (ও অন্যান্য দমন পদ্ধতি) গণতান্ত্রিক কাঠামো, আইনের শাসন তথা ন্যায়বিচারের বৈধতাকে নাকচ করে। বিচার ব্যবস্থাকেই পঙ্গু করে দিতে চায়। বিপরীতে, গণতন্ত্র দাবি করে, মানবাধিকারের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ আইনের শাসনের ভিত্তিকে রক্ষা করা, উর্দীপরা ঘাতকদের আইনি 'অব্যাহতির সংস্কৃতি'র সম্পূর্ণ বিলোপ।
সূত্র:
১. দ্য ট্রিটমেন্ট অফ প্রিজনারস আন্ডার ইন্টারন্যাশানাল ল, পৃ. ১৯২
২ জে বি কৃপালনীর দৃষ্টিভঙ্গি, দ্র. IE, ৩১ মে, ১৯৭৭
৩ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিয়মাবলী,রামনারায়ণ গুপ্ত মামলা, ২০১১, প্যারা ২৮







