সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস
Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
দিল্লিতে ফের প্রতিবাদ ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এই প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। কিন্তু কর্মসূচির আগেই মধ্য দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে ব্যারিকেড, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় প্রতিবাদের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গ্রেফতার হন সিজেপির নেতারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্ক্য শিন্ডে। পরে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। অজিঙ্ক্য শিন্ডে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি পান। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তাঁরা অনুমতি ছাড়া প্রবেশ এবং সরকারি কর্মীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের মুখে পড়েন।
এর পরেই প্রতিবাদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর আহ্বান জানায় সিজেপি। সংগঠনের বক্তব্য, জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার। দিল্লির বাইরে অন্যান্য শহরেও একই সময়ে তিরঙ্গা মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। সিজেপির এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে আম আদমি পার্টিও।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।
সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। স্ক্রল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি গত এক সপ্তাহে মধ্য দিল্লিতে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২৬ হাজার সদস্য।
কনট প্লেস, পটেল চৌক, আইটিও এবং সংসদ মার্গের আশপাশে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। সেন্ট্রাল পার্ক এবং রাজীব চৌক মেট্রো স্টেশনেও নজরদারি বাড়াতে অতিরিক্ত ক্যামেরা বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল তিনটে থেকে কনট প্লেসের আশপাশের কয়েকটি রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও জানিয়েছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ।
কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণাও করেছে নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল। প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, সিজেপির কর্মসূচির ঠিক আগে পার্ক বন্ধ রাখার বিষয়টি প্রতিবাদের পরিসর নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।
মধ্য দিল্লিতে চার বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করার নির্দেশ কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে জারি করা এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, সাধারণ মানুষ যেন এই জমায়েতে অংশ না নেন। জাতীয় পতাকা হাতে সীমিত সংখ্যক মানুষকে নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, কর্মসূচি বন্ধ করার আবেদন জানানো হলেও বৃহস্পতিবার দিল্লি হাই কোর্ট প্রতিবাদে নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। আদালতে পুলিশ জানিয়েছে, জমায়েত নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। তবে কনট প্লেসের মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় প্রতিবাদের কারণে দোকানদার, হকার এবং সাধারণ মানুষের অসুবিধা হতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ চলছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে এবং ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন আন্দোলনকারীরা।
অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছেন, তাঁকে অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কর্মসূচির আগেই আটক করা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য যদি জেলে যেতে হয়, তাতেও তাঁরা প্রস্তুত। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করতে না দেওয়ার পর কনট প্লেসে কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে, অথচ এবারও সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ করে দেওয়া হলো—এই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
জাতীয় পতাকা হাতে প্রতিবাদ, প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা এবং বিপুল নিরাপত্তা মোতায়েন—এই তিনটি বিষয় এখন দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতির কেন্দ্রে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রশাসনের দায়িত্ব হলেও, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ কতটা থাকবে, তা নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। গণতন্ত্রে প্রতিবাদের অধিকার এবং জনজীবন স্বাভাবিক রাখার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, শুক্রবারের কর্মসূচিকে ঘিরে সেই প্রশ্নই ফের সামনে এসেছে।







