কলকাতায় চালু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস
West Bengal School of Magic: মুখ্যমন্ত্রী ‘পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক, ইল্যুশন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস’ স্থাপনের প্রস্তাবে অনুমোদন করেছেন। পুজোর পর উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা বৈঠক করবেন।
কলকাতায় ম্যাজিক শেখার স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই স্কুলের নাম হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক, ইল্যুশন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস’। রাজ্য সরকারের একাধিক দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কেন্দ্র শুধু ম্যাজিক শেখানোর জায়গা নয়। এটি ভারতের জাদুকরী ঐতিহ্য সংরক্ষণ করবে, নতুন শিল্পী তৈরি করবে এবং পর্যটন কেন্দ্র বাড়াবে।
সরকার ইতোমধ্যে একটি রাজ্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিতে রয়েছেন বিখ্যাত জাদুকর জয়শ্রী সরকার ও মানেকা সরকার। এছাড়া তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, পর্যটন দপ্তর, উচ্চশিক্ষা দপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিনিধিরাও আছেন। কমিটিতে একজন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব, জাদুঘর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, জাতীয় জাদুঘর পরিষদের প্রতিনিধি এবং দুইজন শিক্ষাবিদও রয়েছেন। এই শিক্ষাবিদরা পরিবেশন শিল্প ও পাঠ্যক্রম তৈরির কাজে অভিজ্ঞ।
মুখ্যমন্ত্রী ‘পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক, ইল্যুশন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস’ স্থাপনের প্রস্তাবে অনুমোদন করেছেন। পুজোর পর উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা বৈঠক করবেন। প্রথমে তাঁরা একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন বা ডিপিআর তৈরি করবেন। ডিপিআর তৈরি হলে তারপর ক্যাম্পাসের নকশা, নির্মাণকাজ, শিক্ষক নিয়োগ ও পাইলট প্রকল্প শুরু হবে। সবশেষে স্কুলের উদ্বোধন হবে। সরকার তিন বছরের মধ্যে এই স্কুল চালু করার লক্ষ্য নিয়েছে।
কলকাতাকে জাদু ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই এগোবে এই স্কুল। প্রস্তাবিত স্কুলটি উদীয়মান শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দেবে। ভারত ও বাংলার ম্যাজিকের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য আর্কাইভ ও সংগ্রহশালা থাকবে। শিশুরাও ম্যাজিক শিখতে পারবে। পাশাপাশি এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে। দর্শকরা এখানে এসে ম্যাজিকের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
GI Tag Registration: বাংলার দেশি খাসির মাংস, ইলিশের বিভিন্ন পণ্য ও চিংড়ি শুঁটকি জিআই স্বীকৃতি পেতে চলেছে। আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যে স্বীকৃতি পাওয়ার আশা। কিন্তু জিআই তকমা কী এবং এই স্বীকৃতি পেলে বাংলার উৎপাদকদের কী লাভ হবে?
প্রকল্পের খরচ আসবে কোথা থেকে?
রাজ্য সরকারের টাকা, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, জনহিতকর অনুদান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যৌথতা দিয়ে এই স্কুল চলবে। শুধু জাদুকর তৈরি নয়, স্কুলটি মঞ্চসজ্জা, পোশাক পরিকল্পনা, আলোকসজ্জা ও নির্মাণের মতো কাজের প্রশিক্ষণও দেবে। এতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
এই উদ্যোগের খবরে উচ্ছ্বসিত মানেকা সরকার। তিনি বলেন,
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।
“জাদু ও পারফর্মিং আর্টসের এমন একটি স্কুল খোলার ইচ্ছে আমার বাবা পি সি সরকার জুনিয়রের ছিল। এটা একটা স্বপ্নের প্রকল্প। আমরা ‘বেঙ্গল কা জাদু’র কথা শুনি, কিন্তু এর ভিতরে কী আছে তা অনেকেই জানি না।”
তিনি আরও বলেন,
“বাংলায় জাদু বা ইন্দ্রজালের খুব সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আছে। আমার বাবা এ বিষয়ে অনেক গবেষণা করেছিলেন। পরিবেশন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ সত্যিই চমৎকার।”
বাংলায় ম্যাজিকের ইতিহাস অনেক পুরনো। পি সি সরকারের পরিবার এই শিল্পকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন। এখন রাজ্য সরকার সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে। স্কুলে শুধু শেখানোই হবে না, গবেষণা ও নথিপত্র সংরক্ষণের কাজও হবে। এতে ম্যাজিকের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকবে।
কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই স্কুল কলকাতার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে। পর্যটকরা এখানে এসে ম্যাজিক শো দেখবেন, কর্মশালায় অংশ নেবেন এবং স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জানবেন। স্থানীয় শিল্পীরা নতুন সুযোগ পাবেন। শিশুরা ছোটবেলা থেকেই এই শিল্পের সঙ্গে পরিচিত হবে।
এরপর কীভাবে কাজ এগোবে তা ঠিক করবে ডিপিআর। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেই নথিটি সম্পন্ন হলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে প্রক্রিয়াটি ক্যাম্পাস ডিজাইন, নির্মাণ, শিক্ষক নিয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক বোঝাপড়া এবং পাইলট প্রকল্পের দিকে এগিয়ে যাবে। প্রকল্পের পরিধি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতেপুজোর পর উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।






