ঘাড়ধাক্কা খেয়ে ওপারে, বাংলাদেশে যেভাবে বেঁচে আছেন সাইদা ফকির

Saida Fakir Deportation: বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগের পর কী ভাবে দিন কাটছে সাইদা ফকিরের? বাংলাদেশের কোথায় আছেন? কারা আশ্রয় দিল তাঁকে?

inscript
৩ মিনিট
ঘাড়ধাক্কা খেয়ে ওপারে, বাংলাদেশে যেভাবে বেঁচে আছেন সাইদা ফকির

ঢাকা: প্রায় ২০ বছর ধরে ভারতের মুম্বইয়ে সংসার। সেখানে স্বামী, দুই সন্তান, পরিচয়পত্র—সবই ছিল। অথচ এখন সাইদা ফকির নিজের দেশ থেকে বহু দূরে, বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালি গ্রামের একটি সাধারণ পরিবারের আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর বয়স ৪৭ বছর। শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন, হাতে কোনো টাকা নেই, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় নেই। গত পাঁচ দিন ধরে তিনি স্থানীয় মানুষের সহানুভূতির উপর নির্ভর করেই বেঁচে আছেন। ৩০ জুলাই রাত সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশের স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালি গ্রামের আব্দুল মালেকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাঁর একটাই আবেদন—সরকারি ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেন তাঁকে দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তিনি তাঁর ২৩ ও ১৪ বছরের দুই সন্তানের কাছে ফিরে যেতে পারেন।

বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর তাঁর জীবনে সবচেয়ে বড় সহায় হয়ে দাঁড়ান সাতক্ষীরার কলারোয়ার কয়েকজন সাধারণ মানুষ। আশ্রয়দাতা আরিফা বেগম জানান, তাঁর স্বামী আবুল বাশার চিকিৎসার কাজে ভারত থেকে ফেরার সময় বেনাপোল এলাকায় সাইদাকে দেখতে পান। তখন তাঁর গায়ে কাদা-মাটি লেগে ছিল। জামাকাপড় ছেঁড়া ছিল। হাত-পা ফুলে গিয়েছিল। তিনি রাস্তার ধারে বসে কাঁদছিলেন।

আরিফা বেগম বলেন, সাইদার অবস্থা দেখে যে কারও চোখে জল চলে আসবে। তিনি বারবার বলছিলেন,

চাচা, আমাকে আপনার বাসায় নিয়ে যান। আমার ছোট ছোট বাচ্চা ভারতে আছে। আমার কাছে কোনো টাকা নেই।

এই কারণেই তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসেন আবুল বাশার। গত পাঁচ দিন ধরে তাঁরা নিজেদের পরিবারের সদস্যের মতোই সাইদার দেখাশোনা করছেন। পরে স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালি গ্রামের আব্দুল মালেকের বাড়িতে রাখা হয়েছে। ৩০ জুলাই রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করছিলেন।

সাইদা ফকিরের অভিযোগ, তাঁকে কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভারতের মুম্বই থেকে আটক করা হয়। এরপর ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে বিমানে অসমে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্থায়ী বাসিন্দা এবং তাঁর কাছে ভারতীয় পরিচয়পত্রও ছিল। কিন্তু সেগুলি দেখার প্রয়োজনই মনে করেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সাইদা জানান, গত প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে মুম্বইয়ে বসবাস করছিলেন। চলতি মাসের ১৮ অথবা ১৯ জুলাই রাতে স্থানীয় একটি বাজার থেকে সবজি ও রুটি কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় নিজেদের ভারতীয় সিআইডি পরিচয় দেওয়া ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি তাঁকে আটক করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়। তিনি বারবার নিজের ভারতীয় পরিচয়পত্র দেখানোর চেষ্টা করলেও কেউ তা দেখতে রাজি হননি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সোনালি সুইটির পর এবার সাইদা, 'ঘাড়ধাক্কা'র তালিকায় নতুন নাম যে প্রশ্ন তুলছে

Saida Fakir Case: সাইদা ফকিরকে বাংলাদেশি সন্দেহে সীমান্ত পার করে দেওয়ার অভিযোগ নতুন করে নাগরিকত্ব যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সোনালি খাতুন ও সুইটি বিবির ঘটনারই যেন পুনরাবৃত্তি। কাউকে দেশছাড়া করার আগে যথাযথ তদন্ত ও সাংবিধানিক সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেই বিতর্ক ফের উঠে এসেছে।

এরপর তাঁকে কোনো আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরিবারের সঙ্গেও কথা বলতে দেওয়া হয়নি। সরাসরি তাঁকে মুম্বইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চার দিন আটক রাখা হয় বলে তাঁর অভিযোগ। এই সময় তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি নিয়ে সেখানে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু সেই নথিও গ্রহণ বা যাচাই করা হয়নি।

চার দিন পর তাঁকে বিমানে করে অসম সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আরও কয়েকজনের সঙ্গে ৫ থেকে ৬ জনের একটি দলে তাঁকে সীমান্ত পার করিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। সীমান্ত অতিক্রম করার পর দলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি সম্পূর্ণ অপরিচিত এলাকায় একা পড়ে যান। শারীরিকভাবে অসুস্থ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় কোনো রকমে তিনি বেনাপোল এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হন।

সাইদা আরও জানান, ঘটনার প্রায় এক মাস আগে তাঁর শ্বশুরের মৃত্যু হয়। সেই খবর পেয়ে তাঁর স্বামী কর্মস্থল মুম্বই থেকে পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটে চলে যান। ফলে ঘটনার সময় তিনি মুম্বইয়ে একাই ছিলেন। তাঁর দাবি, এই সুযোগেই তাঁকে আটক করা হয়।

নিজের পরিচয় সম্পর্কে তিনি বলেন, তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার বেড়াচাঁপা থানার গোবিন্দপুর গ্রাম। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ আইনউদ্দিন গাজী। তিনি বারবার বলছেন, গুগলে সার্চ করলেও তাঁদের বাড়ির সন্ধান পাওয়া যাবে। তাঁর দুই সন্তান এখনও ভারতে রয়েছে। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন,

আমি ভারতের নাগরিক। আমাকে আমার সন্তানদের কাছে ফিরিয়ে দিন।

আরিফা বেগম আরও জানান, ঢাকা থেকে আসা দুই সাংবাদিক তাঁদের বাড়িতে গিয়ে সাইদার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, সরকারি ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে। সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমানে কোনো সদস্য না থাকায় তিনিই বিষয়টি খোঁজ নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত থেকে এক নারী এসে ভাদিয়ালি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন—এ তথ্য সঠিক। তবে তিনি এই সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেননি। প্রাথমিকভাবে যা জানা যাচ্ছে, ভারতের অনেক দূরের কোনো সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাঁকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে।

সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা বেগম বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তিনি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকেই তিনি প্রথম বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাইদা ফকিরের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত সুইটি ও সোনালির ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেই দুই ক্ষেত্রেও পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁদের দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়েছিল। সাইদার অভিযোগও প্রায় একই ধরনের। তাঁর দাবি, তিনি ভারতীয় নাগরিক, তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় নথিও ছিল। পরিবারের সদস্যরাও সেই নথি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। তবু সেগুলি যাচাই না করেই তাঁকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয় এবং পরে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়।

যদি সাইদার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি শুধু একটি পুশব্যাকের ঘটনা নয়। এটি সীমান্তে নাগরিকত্ব যাচাই, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নও নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। আপাতত সাতক্ষীরার একটি গ্রামের সাধারণ মানুষের সহায়তাতেই দিন কাটছে তাঁর। কিন্তু তাঁর সমস্ত আকুতি ঘুরেফিরে এক জায়গাতেই এসে থামে,

আমি শুধু আমার দুই সন্তানের কাছে, আমার নিজের দেশে ফিরে যেতে চাই।

কৃতজ্ঞতা: ঢাকা স্ট্রিম

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

গান্ধীর ছাতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কারিগরের ইতিহাস

Mahatma Gandhi umbrella: গান্ধীর ছাতা কীভাবে স্বদেশি ভাবনা, দেশীয় উপকরণ ও কারিগরের শ্রমের ইতিহাস তুলে ধরে? আধুনিক বাজারে সস্তা ও যন্ত্রনির্মিত ছাতার দাপটে ঐতিহ্যবাহী ছাতা তৈরি ও মেরামতির কারিগরি জ্ঞান হারিয়ে যাচ্ছে?

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

যে মানুষটি পাইলটই হতে চাননি, তিনিই মাঝআকাশে বাঁচালেন ১৭৪ জীবন

Captain Smit Machchhar: স্পাইসজেটে থাকাকালীন তাঁর ৯,৫০০ ঘণ্টার বেশি উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা ছিল, যার মধ্যে ৬,৪০০ ঘণ্টার বেশি সময় তিনি পাইলট-ইন-কমান্ড হিসেবে ছিলেন। ২০২২ সালের জুন মাসে অভিজ্ঞ পাইলট হিসেবে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ‘ফ্লাইদুবাই’-তে ডাইরেক্ট-এন্ট্রি ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দেন এবং দুবাইয়ে বসবাস শুরু করেন।

ইজরায়েলগামী বিমান হামলা: ‘হিরো’ পাইলট, প্লাম্বার ও দাঁতের ডাক্তার কীভাবে বাঁচালেন ১৭৪ প্রাণ?

Israel flight emergency: ককপিটে পাইলটের উপর ছুরি হামলার পর কীভাবে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেল ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান? আহত অবস্থাতেও কী ভূমিকা নিলেন ভারতীয় পাইলট? কীভাবে এক প্লাম্বার, দন্ত চিকিৎসক এবং কয়েকজন যাত্রী মিলে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে সাহায্য করলেন? শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাঁচল বিমানে থাকা ১৭৪ জনের প্রাণ?

বাংলায় ফের ফিরবে বামেরা?

Left politics in West Bengal: আজকের পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব, পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতির ভঙ্গুরতা এবং শিল্পের অভাব সবচেয়ে বড় সংকট। এই বাস্তবতায় বামপন্থী রাজনীতি যদি শ্রমিক, কৃষক, ছাঁটাই হওয়া কর্মী এবং তরুণ প্রজন্মের অধিকারের লড়াইকে সঠিকভাবে সামনে আনতে পারে, তবে তা নতুন প্রাসঙ্গিকতা পেতে পারে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই পরিবর্তিত অর্থনৈতিক কাঠামোর সাথে বামপন্থীদের প্রথাগত নীতি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?

এনসিইআরটি-র নতুন ইতিহাসের বই হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসচর্চাকে নতুন জায়গা করে দিচ্ছে?

NCERT Class 9 Book controversy: নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি'-র 'রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স' অধ্যায়ে সপ্তম শতক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে আরব, তুর্কি, মুঘল ও ইউরোপীয় আক্রমণের ধারাবাহিকতা, ধর্মীয় উদ্দেশ্য ও হিন্দু রাজাদের দেবী-প্রদত্ত তলোয়ারের উল্লেখ রয়েছে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাঠ-শিখ-রাজপুত-অহোম প্রতিরোধের বর্ণনা। হিন্দুত্ববাদী লেখক জে. সাই দীপকের 'মধ্যপ্রাচ্যের ঔপনিবেশিকতা'র ধারণা ও হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈনের গবেষণার ছায়ায়, এভাবেই তৈরি হচ্ছে নতুন সাম্প্রদায়িক ইতিহাসচর্চার পরিসর।

‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি থেকে কমিশন ঘেরাও, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে ঠিক কী কী হলো?

INDIA Bloc Meeting: ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে এসআইআর ও নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে কী আলোচনা হলো? মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কী কী নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হলো? ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের পর সংসদ ও রাজপথে কী কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে? ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ আন্দোলনের মাধ্যমে কি আরও বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী জোট?

ভুচিচের পদত্যাগ: সার্বিয়ায় জেন-জি নেতৃত্বে বদলাচ্ছে ক্ষমতার সমীকরণ?

Serbian protest against the government: সার্বিয়ায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামোর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে ছাত্র আন্দোলন। নোভি সাদ স্টেশন দুর্ঘটনার পর শুরু হওয়া এই আন্দোলন এবার নির্বাচনী রাজনীতিতেও প্রবেশ করেছে। ভুচিচ প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেও ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকার চেষ্টা করছেন। ফলে ২৫ অক্টোবরের নির্বাচন সার্বিয়ার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা ও প্রশ্ন সামনে আনছে।