মুম্বই বিক্ষোভে অভিজিৎ দীপকে-সহ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর
CJP Protest Against Gyanesh Kumar: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ ঘিরে কেন এফআইআর দায়ের করল পুলিশ? সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে-সহ ৪০০-র বেশি মানুষের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে?
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভের ঘটনায় সিজেপি-র নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল মুম্বই পুলিশ। এই মামলায় দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস-সহ দলের আরও কয়েক জন নেতার নাম রয়েছে। পাশাপাশি ৪০০-র বেশি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকেও মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীর দিন শিবাজি পার্কে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। সিজেপি-র অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মে আরও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছে তারা।
তবে এই বিক্ষোভের জন্য আগে থেকেই পুলিশি অনুমতি চেয়েছিল সিজেপি। মুম্বই পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি। পুলিশের বক্তব্য, শিবাজি পার্কে এই ধরনের জমায়েতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। ২০১৩ সালের বম্বে হাইকোর্টের একটি নির্দেশ এবং পরবর্তী সময়ে মহারাষ্ট্র সরকারের নির্দেশের কথাও পুলিশ জানিয়েছিল। এছাড়া বিক্ষোভের ফলে যানজট, শব্দদূষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অসুবিধা হতে পারে বলেও পুলিশ আপত্তি জানিয়েছিল।
অনুমতি না মেলায় সিজেপি-র তরফে জানানো হয়েছিল, তারা ‘জেল ভরো আন্দোলন’ করবে। শেষ পর্যন্ত ২ অক্টোবর শিবাজি পার্কের কাছে জমায়েত করেন দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। পুলিশের দাবি, প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। দুপুরের পর থেকে সন্ধে পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পতাকা নিয়ে স্লোগান দেন এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
পুলিশের অভিযোগ, জমায়েতটি শিবাজি পার্কের গেট নম্বর ৬-এর কাছে একটি জনবহুল রাস্তায় হয়েছিল। এর ফলে যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। অনুমতি ছাড়াই লাউডস্পিকার ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও পুলিশের দাবি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার শিবাজি পার্ক থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৮৯ ধারা এবং ২২৩ ধারায় মামলা হয়েছে। বেআইনি জমায়েত এবং সরকারি কর্মচারীর বৈধ নির্দেশ অমান্যের মতো অভিযোগ এই ধারাগুলির আওতায় পড়ে। পাশাপাশি মহারাষ্ট্র পুলিশ আইনের কয়েকটি ধারাও ব্যবহার করা হয়েছে।
এফআইআর-এ অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা, প্রণব আহিরে, অজিঙ্কা শিন্ডে, আফরিন নওয়াজ, সৌম্যা কোর্দে, অঙ্কিত ভরদ্বাজ, বিজয় মালাঙ্গি এবং যোগেশ ইঙ্গলের নাম রয়েছে। এ ছাড়াও ৪০০-র বেশি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত চলছে।
শিবাজি পার্ক এলাকার এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবী সিদ্ধি দেওলেকরও সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক মানুষকে জমায়েত করে বিক্ষোভ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, সিজেপি-র বক্তব্য, ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার দাবিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে পুলিশি অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসকেও চ্যালেঞ্জ করেন, বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠানোর কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিকেই সামনে আনতে চাইছে দলটি। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের আপত্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে এসআইআর সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, কোনো প্রতিষ্ঠানে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্ত আইন মেনেই নেওয়া হয়েছে।
২ অক্টোবরের মুম্বইয়ের বিক্ষোভে সিজেপি-র পাশাপাশি একাধিক পরিচিত মুখও উপস্থিত ছিলেন। অভিনেত্রী শাবানা আজমি, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, গায়ক বিশাল দাদলানি এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। শিবসেনা এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার তরফেও এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভের পর সিজেপি-র নেতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দিল্লিতে আরও বড় আন্দোলন করা হবে। দলের তরফে সেই আন্দোলনকে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ চলাকালীন ৭৫ বছরের এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে। গোপালকৃষ্ণ সুব্বাইয়া পিল্লাই নামে ওই ব্যক্তি বিক্ষোভস্থলে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি সংগঠন সিজেপি-র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে বিক্ষোভের কোনো সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।






