৫টি উপায় যার ব্যবহারে বাড়িতে বসে বিনা বিনিয়োগে রোজগার করতে পারবেন হাজার হাজার টাকা

By: Sourish Das

August 12, 2021

Share

Source: Pexels

৫টি উপায় যার ব্যবহারে বাড়িতে বসে বিনা বিনিয়োগে রোজগার করতে পারবেন হাজার হাজার টাকা

 

আজকের ইন্টারনেট নির্ভর যুগে মোবাইল কিংবা কম্পিউটার ছাড়া একটা মুহূর্ত আমরা ভাবতে পারি না। নানান ধরনের ভিডিও থেকে শুরু করে প্রতিমুহূর্তের খবর, এমনকি কুকিং টিপস কিংবা শরীর ভালো রাখার সুলুক সন্ধান, সবকিছুই আজকাল মিলছে মুঠোফোনে।

 

এই মোবাইল ফোন কিংবা কম্পিউটার এবং অবশ্যই তার সাথে ইন্টারনেট পরিষেবা অনেকের ক্ষেত্রে হয়ে উঠেছে জীবনধারণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আজকের ওয়ার্ক ফ্রম হোম এবং সোশ্যাল ডিসটেন্সিং এর যুগে, ইন্টারনেট আমাদের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করছে।

 

আজকে যখন করোনা ভাইরাসের কারণে সকলে বাড়িতে বসে, এমনকি অনেকে কাজ পর্যন্ত হারিয়েছেন নিজের, তাদের ক্ষেত্রে অনলাইন মাধ্যমটি হয়ে উঠেছে টাকা রোজগারের একমাত্র ঠিকানা। কিছুদিন আগেই এই মারণ ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ থেকে আমরা সামলে উঠলাম। গত দুই বছরে বহু মানুষ এমন আছেন যারা নিজেদের কাজ হারিয়েছেন। বহু ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে যারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে নিজেদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ সব কিছুই সামলাচ্ছে। সকলের ক্ষেত্রেই প্রধান প্রয়োজনীয় জিনিস হয়ে উঠেছে ইন্টারনেট।

 

কিন্তু, ইন্টারনেট কি শুধুমাত্র স্কুল কলেজ কিংবা কাজের বিকল্প? শুধুই সময় নষ্ট করার জিনিস? আগেকার দিনে অনেক এরকমটা মনে করলেও, যুগ কিন্তু পাল্টেছে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে অনলাইন মাধ্যম সকলের কাছে কাজের নতুন রাস্তা খুলে দিচ্ছে। আজকে যারা এই মারণ ভাইরাসের কারণে নিজের কাজ খুইয়েছেন, তাদের কাছেও ইন্টারনেট মাধ্যম হয়ে উঠেছে টাকা রোজগারের একমাত্র মাধ্যম। তবে এখনও অনেকেই জানেন না, ইন্টারনেটের মাধ্যমে কিভাবে সহজে টাকা রোজগার করা যায়, তাও আবার খুব কম ইনভেস্টমেন্ট করেই। তাহলে চলুন, আজকে এমন ৫টি অ্যাপ্লিকেশন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ব্যাপারে আলোচনা করা যাক, যেখানে খুব কম পরিমাণ টাকা খরচ করেই আপনারা মাসের শেষে একটা ভালো টাকা রোজগার করতে পারবেন।

 

১. ফ্রিল্যান্সিং –

আজকের ইন্টারনেটের যুগে সবথেকে সহজে এবং সবথেকে বেশি টাকা রোজগার করার মাধ্যম হলো এই ফ্রিল্যান্স কাজ করা। আপনি কপিরাইটিং করতে পারেন, যেকোনো এডিটোরিয়াল লিখতে পারেন, ভিডিও এডিট করতে পারেন, গ্রাফিক ডিজাইনিং করতে পারেন, মার্কেটিং করতে পারেন এমনকি অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করতে পারেন এর মাধ্যমে। কোন কোম্পানির সঙ্গে আপনি যুক্ত থাকবেন এবং সেখানে আপনাকে নিজের কাজ করতে হবে। কাজের ভিত্তিতে আপনাকে পেমেন্ট দেওয়া হবে। তবে এই কাজ যে শুধুমাত্র ভারতের সীমিত তা নয়, আপনি বিদেশের যে কোন কোম্পানির সাথেও কন্ট্রাক্ট করতে পারেন। যেকোনো সার্চ ইঞ্জিনের সার্চ করলে এরকম সংস্থার খোঁজ আপনি পাবেন, যেখানে এই ধরনের ফ্রিল্যান্স কাজ করা সম্ভব।

 

নিজের উদ্যোগে তৈরি সমাধি বাক্সের উপরে বিছানা পেতে ঘুমিয়েছেন অশোক ঘোষ

অশোক ঘোষ ।। ছবি সৌজন্যে : Google

কিভাবে করবেন?

প্রথম ধাপ – প্রথমে আপনাকে নিজের নাম, ইমেইল এড্রেস, দেশের নাম এবং বাকি যা যা ইনফরমেশন প্রয়োজন সেই সমস্ত দিয়ে নির্দিষ্ট জায়গাতে নিজের অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।

 

দ্বিতীয় ধাপ – এবারে আপনাকে নিজের প্রোফাইল তৈরি করতে হবে, যেখানে আপনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আপনার কর্ম দক্ষতা এবং আপনার অভিজ্ঞতা তালিকা করে সাজিয়ে লিখবেন। যদি আপনার প্রোফাইল সেই কোম্পানির পছন্দ হয় তাহলে তারা আপনাকে কন্টাক্ট করবে। তবে জানিয়ে রাখি, প্রত্যেকটি কোম্পানির আলাদা আলাদা সাইন আপ করার পদ্ধতি থাকে। তাই যেকোনো জায়গায় সাইন আপ করে সেখানে অ্যাকাউন্ট তৈরি করার আগে তাদের কাজের পদ্ধতি এবং আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পদ্ধতি কিরকম।

 

তৃতীয় ধাপ – সেই কোম্পানির সাথে সমস্ত কথাবার্তা বলে আপনি তাদের কাজ গ্রহণ করতে পারেন। আপনার সাথে সেই কোম্পানির একটি চুক্তি হবে, সেই অনুযায়ী আপনাকে কাজ করতে হবে।

 

  ২. ব্লগিং –

বর্তমানে ইন্টারনেটের যুগে ব্লগিং আয় করার একটি অন্যতম বড় রাস্তা হয়ে উঠেছে। ব্লগিং করে আপনি বাড়িতে বসে স্বেচ্ছানুযায়ী কনটেন্ট তৈরি করে টাকা রোজগার করতে পারবেন। তবে ব্লগিং করার জন্য আপনার আগে থেকে কিছুটা জ্ঞান থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন এই ব্যাপারে। ব্লগিং এর বিষয় নিয়ে বলতে গেলে, অবশ্যই বলতে হবে দুটি জিনিসের কথা। প্রথমটি হলো ট্রাফিক, অর্থাৎ কতজন মানুষ আপনার কনটেন্ট পছন্দ করছে অথবা কনটেন্ট দেখছে সেটা, আর দ্বিতীয়টি হলো বিজ্ঞাপন।

নিজের উদ্যোগে তৈরি সমাধি বাক্সের উপরে বিছানা পেতে ঘুমিয়েছেন অশোক ঘোষ

অশোক ঘোষ ।। ছবি সৌজন্যে : Google

ট্রাফিক নিয়ে আসার জন্য আপনাকে নিজের কনটেন্টের কোয়ালিটির ওপরে এবং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের উপরে বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে। আপনি যদি ভাল কোয়ালিটির কনটেন্ট লেখেন, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে সেই কনটেন্ট যদি প্রয়োজনীয় কনটেন্ট হয় তাহলে আপনার ব্লগ অথবা আপনার ওয়েবসাইট অবশ্যই ভালো জায়গায় পৌঁছাবে।

 

তবে ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে আরো একটি জিনিস সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হল সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। যদি আপনি এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ব্যাপারে বিস্তারিত না জানেন তাহলে হয় আপনাকে শিখে নিতে হবে, নতুবা আপনাকে এর জন্য আলাদা লোক নিয়োগ করতে হবে।

 

খরচ –

ফ্রিল্যান্স কাজ করতে যেমন বিশেষ কোনো টাকা খরচ করতে হয় না, ব্লগিং করতে গেলে আপনাকে টাকা খরচ করতে হবে। আপনি কত কম টাকা খরচ করবেন সেটা আপনার উপর। তবে যদি আপনি নিজের ওয়েবসাইট ব্যবসাকে নিজের প্রধান হিসেবে দাঁড় করাতে চান তাহলে আপনাকে হয়তো খরচ করতে হবে।

 

যদি একেবারে ন্যূনতম খরচে ব্লগিং করতে চান তাহলেও আপনাকে অবশ্যই একটি ইউআরএল অ্যাড্রেস কিনতে হবে। এখানে আপনার কিছু টাকা ইনভেস্টমেন্ট আছে। এবারে আসে ব্লগিং প্ল্যাটফর্মের কথা। যদি আপনি সবথেকে কম খরচের মধ্যে ব্লগিং করতে চান তাহলে আপনার জন্য রয়েছে ব্লগার প্ল্যাটফর্ম। এখানে আপনাকে কোন টাকা ইনভেস্ট করতে হবে না। ব্লগার প্ল্যাটফর্মের মধ্যে আপনাকে শুধুমাত্র নিজের ওয়েবসাইট যুক্ত করতে হবে। তারপর যেকোনো একটি থিম সিলেক্ট করে ব্লগিং শুরু করতে হবে। অনলাইনে ব্লগার প্ল্যাটফর্মের বেশ কিছু থিম উপলব্ধ, তবে শুধুমাত্র বিশ্বস্ত জায়গা থেকেই থিম নেবেন, কারণ এই সমস্ত থিমে ভাইরাস থাকতে পারে, যা আপনার ওয়েবসাইটের সমূহ ক্ষতি করবে। এই প্লাটফর্মে এসইও করার জায়গা একটু কম আছে।

 

এবার আসে ওয়ার্ডপ্রেস। এটি একটি সম্পূর্ন ফ্রি প্লাটফর্ম হলেও, এটিকে ব্যবহার করার জন্য আপনার টাকা খরচ হবে। আপনাকে ন্যূনতম একটি হোস্টিং কিনতে হবে, যার সাথে আপনাকে নিতে হবে একটি এসএসএল সার্টিফিকেট ( অনেক সময় হোস্টিং কোম্পানির তরফ থেকে বিনামূল্যে প্রদান করা হয়, এবং এটি আপনার ওয়েবসাইটকে সুরক্ষিত রাখে )। তার সাথে সাথেই ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতে হলে হয়তো আপনাকে কিছু থিম কিনতে হবে যার জন্য আপনার টাকা খরচ হবে।

 

এই প্ল্যাটফর্ম আপনাকে ন্যূনতম টাকা খরচে প্রফেশনাল ব্লগিং করার একটি অভিজ্ঞতা দেবে। আপনি এই প্ল্যাটফর্মে ওয়েবসাইটের এসইও করতে পারবেন। আপনার পছন্দের কিওয়ার্ড ৱ্যাঙ্ক করাতে পারবেন। এমনকি এএমপি এর মত ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন যা আপনার ওয়েবসাইটকে গুগলের কাছে আরো গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

 

তবে শুধুমাত্র ব্লগার এবং ওয়ার্ডপ্রেস নয়, আপনি জুমলা, দ্রুপাল, উইকস, যেকোনো ফ্রেমওয়ার্ক এবং কোডিং করেও ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন।

 

কিভাবে রোজগার করবেন?

ব্লগিং করে রোজগার করার জন্য আপনাকে অবশ্যই কিছু জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। ব্লগিং অথবা ওয়েবসাইট এর ক্ষেত্রে টাকা রোজগার করার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো বিজ্ঞাপন বা অ্যাড। ভারতে বর্তমানে বহু অনলাইন অ্যাড নেটওয়ার্ক কাজ করছে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো গুগল অ্যাডসেন্স, ফেসবুক অডিয়েন্স নেটওয়ার্ক ( এটি শুধুমাত্র ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেলের ক্ষেত্রে কাজ করবে ), মিডিয়া ডট নেট, এছাড়াও আরো অনেক। যদি কেউ আপনার কনটেন্ট পড়তে পড়তে আপনার কনটেন্টের উপর দেখানো বিজ্ঞাপনের উপরে ট্যাপ করে তাহলে আপনি কিছুটা টাকা পাবেন, এবং সেই অ্যাড নেটওয়ার্ক কিছু টাকা গ্রহণ করবে।

 

কিভাবে শুরু করবেন?

ব্লগিং করার জন্য প্রথমে উপরের কোন একটি প্লাটফর্ম ব্যবহার করে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলুন। তারপরে ভালো কিছু টপিকের ওপর আর্টিকেল লিখুন। এবারে সেই আর্টিকেলে আপনার পছন্দের কিওয়ার্ড যুক্ত করুন। ভালো করে গুছিয়ে সাজান নিজের আর্টিকেল। নিজের ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করুন। তাহলেই আপনি মাসের শেষে একটা ভালো রকম টাকা রোজগার করতে পারবেন এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।

 

৩. ভ্লগিং –

বর্তমানে ইউটিউব এবং ফেসবুক অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম হয়ে উঠেছে, সেই দিক থেকে দেখতে গেলে শুধুমাত্র ব্লগিং নয়, ভিডিও ব্লগিং অর্থাৎ ভ্লগিং টাকা রোজগার করার একটি অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। আপনি ফেসবুকের মাধ্যমে কিংবা ইউটিউবের মাধ্যমে এই ভ্লগিং করে খুব সহজে অনেক টাকা রোজগার করতে পারবেন।

 

এজন্য আপনাকে কিছু ভালো টপিক পছন্দ করতে হবে। তারপরে সেই টপিকের ব্যাপারে যথেষ্ট রিসার্চ করে একটি ভিডিও তৈরি করতে হবে। এবার আপনি ফেসবুকের মাধ্যমে অথবা ইউটিউবের মাধ্যমে এই ভিডিও আপলোড করবেন। আপনার কনটেন্ট যদি ভাল হয় এবং মানুষের যদি পছন্দ হয় তাহলে খুব সহজে আপনি ভিডিও তৈরি করে টাকা রোজগার করতে পারবেন।

 

খরচ –

ভ্লগিং করতে গেলে এমনিতে বলা হয় কোন খরচ লাগে না। এখানে একমাত্র ব্যাপারটি হলো আপনার কনটেন্ট। যদি আপনি ভাল কনটেন্ট তৈরি করেন তাহলে নিখরচায় আপনি ভালো টাকা রোজগার করতে পারবেন। কিন্তু যদি আপনি আপনার ভিডিওর মান উন্নত করতে চান তাহলে আপনাকে কিছু জিনিস কিনতে হবে। তবে এমনিতে যদি শুরু করতে চান তাহলে আপনার সাধারন মোবাইলে ক্যামেরা দিয়েই ভ্লগিং শুরু করতে পারেন।

 

কিভাবে রোজগার করবেন?

ভ্লগিং এর ক্ষেত্রেও আপনার টাকা রোজগারের মাধ্যম সেই বিভিন্ন বিজ্ঞাপন। ভালো ভিডিও তৈরি করে আপনি যদি ভালো বিজ্ঞাপন অর্জন করতে পারেন, তাহলে আপনি মাসে একটা ভালো পরিমান টাকা রোজগার করতে পারবেন।

 

৪. ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার –

একজন ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার হলেন সেই ব্যক্তি যার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে একটা বিশাল সংখ্যক ফলোয়ার রয়েছে। যাকে হয়তো বিভিন্ন বিশেষ ব্যক্তিরা ফলো করেন, এবং যিনি নিজেও  একজন জনপ্রিয় সেলিব্রেটি। যদি সেরকম কোন মানুষ থাকেন, বা যদি কেউ নিজেকে ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয় করতে পারেন তাহলে তিনি ইন্সটাগ্রাম এর মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রচুর টাকা রোজগার করতে পারবেন। এই টাকা রোজগার করতে আপনাকে কোন রকম খরচ করতে হবে না। আপনি শুধুমাত্র বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রমোশন করবেন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন অথবা এবং বিভিন্ন স্পন্সর করা ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করবেন।

সাধারণত যারা মডেলিং ইন্ডাস্ট্রি বা গ্লামার ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত তাদের ক্ষেত্রে ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া অত্যন্ত সহজ। ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে একটি নির্দিষ্ট বিষয় বেছে নিতে হবে, যেখানে আপনি সবথেকে ভালোভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেন। আপনি যে বিষয়ে পারদর্শী, সেই বিষয়ের উপরে আপনি স্পন্সার গ্রহণ করতে পারেন।

 

আপনার নিজস্ব একটি ভালো প্রোফাইল পিকচার এবং একটি ভালো বায়ো তৈরি করতে হবে আপনার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল এর জন্য। অবশ্যই নিজের প্রোফাইল এর সেটিংস প্রফেশনাল অথবা বিজনেস অ্যাকাউন্টে নিয়ে যান। পার্সোনাল প্রোফাইল হলে সহজে ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া যাবে না। ইনস্টাগ্রামের সেটিংসে গিয়ে আপনি পরিবর্তন করতে পারেন নিজের প্রোফাইলের ধরন।

 

তারপরে আপনাকে নিজের পারদর্শিতার বিষয়ের উপরে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট করতে হবে, যেগুলি যথেষ্ট পরিমাণে লাইক এবং ফলোয়ার তুলতে সক্ষম হবে। যদি আপনার প্রোফাইলে ভালো পরিমাণ লাইক এবং ফলোয়ার তৈরি হয়ে যায় এবং তারা যদিআপনার প্রত্যেকটি ছবি পছন্দ করে, তাহলে আপনি সহজেই হয়ে উঠতে পারবেন একজন ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার।

 

এর পরে আপনি স্পন্সর করা পোস্ট, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, প্রোডাক্ট রিভিউ ইত্যাদি করে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে টাকা রোজগার করতে পারেন। ইনস্টাগ্রামের থেকে আয় করার তেমন কোনো নির্দিষ্ট মাত্রা নেই। আপনি যত টাকা ইচ্ছা রোজগার করতে পারেন আপনার ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে, শুধু একটাই খেয়াল রাখতে হবে, আপনার ইনস্টাগ্রামের ফলোয়ার যেন কম না হয়।

 

৫. অনলাইন টি-শার্ট ডিজাইনিং –

যদি আপনি ভালো আঁকতে পারেন অথবা ডিজিটাল আর্ট আপনার হাতে ভালো হয়, তাহলে আপনি অনলাইনে টি-শার্ট, মোবাইলের ব্যাক কভার, ডিজাইন করা কাপ ইত্যাদিতে ডিজাইন তৈরি করে অনলাইনের মাধ্যমে টাকা রোজগার করতে পারেন।

 

অনলাইনে এমন বহু ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে আপনি খুব সহজেই নিজের বানানো ডিজাইন পাঠিয়ে তাদের থেকে রোজগার করতে পারেন। তবে এর জন্য আপনাকে সেই সমস্ত ওয়েবসাইটের সাথে আগে যোগাযোগ করতে হবে। আপনাকে শুধু তাদের কাছে নিজের ডিজাইন পাঠিয়ে দিতে হবে। তারপরে প্রিন্টিং এবং বিক্রি করার দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে তাদের।

 

এছাড়া যদি আপনি নিজের অ্যাফিলিয়েট লিংক থেকে কাউকে আপনার ডিজাইন করা টি-শার্ট কেনাতে পারেন, তাহলে আপনি অতিরিক্ত কমিশন পেয়ে যাবেন। এছাড়া আপনি নিজেও আপনার ডিজাইন‌ করা টি-শার্ট বিক্রি করতে পারেন, তবে এর জন্য আপনাকে আলাদাভাবে নিজের একটি কোম্পানি তৈরি করতে হবে এবং সেখানে আলাদা রকম ভাবে মার্কেটিং করতে হবে।