মরমীয়া সুফি সাধনার ক্ষেত্র কাশ্মীর

By: madhumita karmakar

October 21, 2021

Share

সাক্ষর সেনগুপ্ত: বাংলার বিচিত্র সাংস্কৃতিক উপাদান জনজীবনের আঞ্চলিকতায় বিশিষ্টতা পেয়েছে। রূপবৈচিত্রের প্রবহমান ধারা আঞ্চলিক জীবন ও সংস্কৃতিকে বৈভবশালীও করেছে। যেমন, আঠারো ভাটির দেশ-পরিচয়ে সুন্দরবনের দুর্গমতা ও দারিদ্রমেশা জনজীবনের সাংস্কৃতিক অন্বেষণ নানা প্রসঙ্গেই আগ্রহের বিষয়। আবার রাঢবঙ্গ বা উত্তরের নানা ধরনের, বর্ণের, বৈচিত্রের এক দীর্ঘ সাংস্কৃতিক পরম্পরা পল্লী বাংলার ভিটেমাটির অঙ্গনে গড়ে উঠেছে, মনে করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লোকসংস্কৃতি গবেষক আবুল আহসান চৌধুরী। আসলে এই লোকসংস্কৃতি বা লোকাচারের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে গ্রাম সমাজের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহ।

কেমন তার সামাজিক প্রতিফলন ? উদাহরণ দিয়ে বোঝালেন সমাজতত্ত্ববিদ ডঃ অদিতি বসু। গ্রামে হিন্দুদের দুর্গাপূজায় সাহায্য করেন মুসলমানরা। হিন্দুর শবদেহ কাঁধে করে শ্মশানে পৌঁছে দেন। মুসলমানদের উৎসবে যোগ দেন হিন্দুরা, পির-পিরানি, গাজি-বিবির দরগায় মানত করেন। উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় ১২ ফাল্গুন গোরাচাঁদ পিরের উৎসবে বাড়গোপপুরের কালু ঘোষের পরিবার হাজত দেন। ঘুটিয়ারি শরিফে গাজি পিরের দরগায় বারুইপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির মেয়েরা প্রথম সিন্নি চড়ান, মোমবাতি জ্বালেন। শাকশহরের বামুন পিরের দরগা থেকে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে তেল পড়া নেন চর্মরোগ, কাটা-পোড়ার ওষুধ হিসেবে। লক্ষ্মীকান্তপুর থেকে কুলপির দিকে দয়ারামের কাছাকাছি আছেন বামুন গাজি। সেপাই চেহারার অশ্বারোহী, মুখে দাড়িগোঁফ, হাতে লাগাম, পায়ে মোজা। শনি-মঙ্গলবারে তুমুল ভিড়। হিন্দু রাঢ়ী ব্রাহ্মণ ও মুসলমান দেয়াশি উভয়েই পুজো করেন। বাতাসা ভোগ, মুরগি উৎসর্গের প্রথা আছে। সুন্দরবনে জল-জঙ্গলজীবী হিন্দুদের যিনি বনচণ্ডী বা বনদেবী, তিনিই মুসলমানদের বনবিবি। নরেন্দ্রপুরের কাছে আছেন শিশুদের রক্ত-আমাশার দেবতা— মুসলমানের রক্তাখাঁ, হিন্দুর রতনগাজি। হিন্দুর সত্যনারায়ণ আর মুসলমানের সত্যপির যেন একেরই দুই রূপ।